নুয়ে পড়েও রক্ষা হয়নি তামিমের

0
62

কাগজ ডেস্ক: প্রথম ইনিংসে দারুণ একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। অবশ্য অন্যরা খুব একটা সুবিধা করতে না পারায় বাংলাদেশের সংগ্রহ খুব একটা বড় হয়নি। প্রতিপক্ষের বিশাল সংগ্রহের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ খুব একটা সুবিধা করছে সেটা বলা যাবে না। হ্যামিল্টনে সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ১৭৪ রান তুলেছে, উইকেট হারিয়েছে চারটি।
অবশ্য দ্বিতীয় ইনিংসের চমৎকার খেলেছেন বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবাল। দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে কিছুটা আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত ৭৪ রান করেই সাজঘরে ফিরে যান এই বাঁহাতি ওপেনার। ৮৬ বল খেলেছেন, ১২টি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল তাঁর এই ইনিংসে।
তবে তামিমের আউটটি ছিল দুর্ভাগ্যজনক। দলীয় ১৩০ রানের মাথায় ৩১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কিউই পেসার টিম সাউদির বাউন্সারের শিকার হন তিনি। বেশ গতির এই বলটি থেকে রক্ষা পেতে নুয়ে পড়েও রক্ষা পাননি, তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে বলটি গিয়ে জমা হয় উইকেট রক্ষকের হাতে।

এর আগে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে ৭১৫ রানের বিশাল সংগ্রহ গড়ে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে। এটি দলীয় রানের রেকর্ড। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথম ৭০০ রানের দেখা পেল কিউইরা। ২০১৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৬৯০ রান ছিল আগের সর্বোচ্চ।
সেডন পার্কে কেন উইলিয়ামসনের অপরাজিত ২০০ রানের ওপর ভর করে এই বিশাল সংগ্রহ গড়ে নিউজিল্যান্ড। ২৫৭ বলের ইনিংসটি ১৯টি চার দিয়ে সাজিয়েছেন তিনি। এটি তাঁর ২০তম টেস্ট সেঞ্চুরি। এদিন কলিন ডি গ্র্যান্ড হোম ৫৩ বলে অপরাজিত ৭৬, নেইল ওয়াগনার ৩৫ বলে ৪৭, বিজে ওয়াটলিং ৩১ ও নিকোলাস ৫১ রান করেন।
বাংলাদেশের পক্ষে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন সৌম্য সরকার ও মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে নিয়েছেন এবাদত হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ।
তিন সেঞ্চুরির এই ম্যাচে নিউজিল্যান্ড আগেরদিনের ৪৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমে এদিন আরো ২৬৪ রান যোগ করে। আগের দিনই রাভাল ১৩২ ও ল্যাথাম ১৬১ রান করে দলকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান।

আর বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছিল ২৩৪ রান। কিউইদের ভয়ংকর পেস আক্রমণের বিপক্ষে শুধু তামিম ইকবালই ভালো খেলেছেন। ডি গ্র্যান্ডহোমের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ১২৮ বলে ১২৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস খেলেন তিনি। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট শতক, যাতে ২১টি চার ও একটি ছক্কার মার রয়েছে।
তবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি মুমিনুল হক (১২), মোহাম্মদ মিঠুন (৮) ও সৌম্য সরকার (১)। তিন ব্যাটসম্যান দ্রুত সাজঘরে ফিরলেও মাঝখানে কিছুটা বিপদে পড়ে সাফরকারী দল। ২২ রানের একটি ইনিংস খেলে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ আউট হয়ে যান। তবে পরে লিটস দাস দলকে এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখান। তিনিও ২৯ রান করে আউট হলে সংগ্রহটা খুব একটা বড় হয়নি বাংলাদেশের।
ট্রেন্ট বোল্ট ও নিল ওয়াগনারের বোলিং তোপে বাংলাদেশের এই বাজে অবস্থা হয়েছে। ওয়াগনার ৪৭ রানে পাঁচ উইকেট তুলে নেন। আর বোল্ট পান তিন উইকেট।