এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ কখনো দেখেনি: দুদু

0
179
এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ কখনো দেখেনি: দুদু

কাগজ প্রতিবেদক: আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, পিটিয়ে হত্যা, ধর্ষণের ঘটনাবলী আইনমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শামসুজ্জামান দুদু।
‘গণপিটুনি নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়, এটা বিএনপি-জামায়াতের একটি নিখুঁত পরিকল্পনা বা কৌশল’— আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে দুদু বলেন, রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে। কখন কাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আইনমন্ত্রী এসব ঘটনাবলী বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। গত এক শতাব্দীতে এরকম অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি। দেশদ্রোহীমূলক কথা বলার পরও আইনমন্ত্রী তাকে (প্রিয়া সাহাকে) সার্টিফিকেট দিয়েছেন, ওটা দেশদ্রোহীমূলক কথা নয়।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা জনগণের টাকায় বেতন নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যদি দুর্গত মানুষদের ফেলে লন্ডনে যান আর দেশের মধ্যে নির্বিচারে ধর্ষিত হয় আমার মা-বোনেরা, গণপিটুনিতে নিরীহ মানুষ মারা যায় তাহলে সরকারের কিসের প্রয়োজন? এই সরকার এমনিতেই অবৈধ। এই সরকার ভোটারবিহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত। এই সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মাটি চাপা দিয়েছে, বিলুপ্ত করেছে, কবরস্ত করেছে।

আন্দোলন ছাড়া কোন পথ নেই উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে প্রতিবাদ আর আন্দোলন ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নাই। আইন আদালত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অকার্যকারিতা, প্রশাসনের যে একচোখা নীতি প্রত্যক্ষ করেছি, তাতে স্বাভাবিকভাবে খালেদা জিয়া কোর্টের মাধ্যমে মুক্ত হবে—এটা সিনিয়র আইনজীবীরাও মনে করেন না। আন্দোলন এবং প্রতিবাদ মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। সেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার অর্জন করেছি। সেই ’৭১ ও মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগ ও তার সরকার অপমানিত করেছে। প্রতিবাদ এবং আন্দোলন ছাড়া এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে টিকে থাকা অসম্ভব ব্যাপার। তাই আসুন গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি, রাস্তায় নেমে আসি। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।