রংপুর সদর আসনে হাল কে ধরবেন এই আলোচনা সর্বত্র

0
26
রংপুর সদর আসনে হাল কে ধরবেন এই আলোচনা সর্বত্র

জয়নাল আবেদীন: সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে ২৮ বছর রাজত্বের অবসান ঘটল জাতীয় পার্টির। শুণ্য আসন এখন থেকে রংপুর সদর আসনে হাল কে ধরবেন এই আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয়ভাবে এখনও প্রার্থী চুড়ান্ত না করলেও ঘুরে ফিরে তিন জনের নাম শোনা যাচ্ছে । জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, আপাতত এরশাদ পরিবারের বাইরে কাউকে প্রার্থী করে আসন হারানোর ঝুঁকি নিতে চায় না দলটি। এরশাদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তিন জনের নাম এই মুহূর্তে আলোচনা হচ্ছে। তারা হলেন এরশাদের ভাই হুসেইন মুহাম্মদ মোর্শেদ এবং এরশাদের ছেলে রাহগীর আলমাদি সা’দ এরশাদ এবং এরশাদের ভাতিজা সাবেক সাংসদ আসিফ শাহরিয়ার । সাদ এরশাদ দীর্ঘ দিন মালয়েশিয়া প্রবাস জীবন শেষে এখন রাজধানী ঢাকাতেই থাকেন। সাদ এখন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। এরশাদের এই ভাতিজা রংপুরের গঙ্গাচড়া-১ আসন থেকে এর আগে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত বছর রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন শাহরিয়ার আসিফ। সেই সময় তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বরখাস্ত করা হয়। এদিকে এরশাদ পরিবারের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সে তালিকায় প্রথমে রয়েছে রংপুর জেলা জাতীয়পার্টির সাধারণ সম্পাদক এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। তিনি গত নির্বাচনে রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন থেকে লাঙ্গল প্রতিকে নির্বাচন করে আ.লীগ প্রার্থী আশিকুর রহমানের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। রংপুরের মানুষ অতি আবেগী তাই তাদের পুজি করে রংপুর অঞ্চলে জাতীয় পার্টির ভীত মজবুত রাখতেই এরশাদকে রংপুরে দাফন করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ।তবে দলের চেয়ারম্যানের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগে এ নিয়ে এখনই কথা বলতে নারাজ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। জানাগেছে, এরশাদের অবর্তমানে রাজনৈতিক যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো তা অপূরণীয়। তবে এরশাদকে নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা দেখা গেছে সর্বত্র সাধারণ মানুষের মধ্যে। কারণ ১৯৯১ সাল থেকে রংপুর সদরের মানুষ এরশাদকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে আসছে। খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে এরশাদের জনপ্রিয়তা ছিলো আকাশচুম্বী। সদর আসন জাতীয় পার্টির আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। জোটগত নির্বাচনের কারণে গত তিনটি নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এরশাদই বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। দলের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে এখানে আওয়ামী লীগ কিংবা অন্য কোনো দল সুবিধা করতে পারবে না। এদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ মনে করছে, এরশাদের অবর্তমানে সদর আসন আর জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়া হবে না। দীর্ঘদিন থেকে রংপুর সদর আসনটি এরশাদ দখল করে রেখেছিলেন। তিনি এলাকায় না থাকার কারণে এখানকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আগামীতে এখানে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই।