উপজেলায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের ব্যাপারে নমনীয় আ’লীগ

0
67

সদরুল আইন: আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কঠোর হওয়ার পরিবর্তে তাদের বিষয়ে ‘নমনীয়’ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর করতে এ উদ্যোগ নিয়েছে দলটি।

আওয়ামী লীগ নেতারা জানিয়েছে, বিভিন্ন উপজেলায় যদি আমরা বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিতে যাই তাহলে সেখানেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করবেন।

এ ধরনের নির্বাচন আমরা চাই না। এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রায় অর্ধশত একক প্রার্থী পাওয়া গেছে।

তাই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করতে দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে না। এদিকে দলের এ ধরনের মনোভাবের কারণে বেশিরভাগ উপজেলায় এখন ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগের মধ্যে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেছেন, আগে বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আমরা সে অবস্থান থেকে সরে এসেছি।

আমরা চাই-প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বিজয়ী করবে। যিনি গ্রহণযোগ্য তাকেই তারা বেছে নেবেন।

তাই দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রার্থির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেইনি।

ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহীদের বিষয়ে দুই ধরনের মত পাওয়া যায়।

বৈঠকে উপস্থিত কয়েক নেতা জানান, প্রথমে বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে কয়েক নেতা যুক্তি দেখিয়ে বলেন, এটা ঠিক হবে না। নির্বাচনটা একপেশে হয়ে যাবে। উৎসবমুখর হবে না।

দুই মতের কারণে ওইদিন বিদ্রোহীদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। শীর্ষ কয়েক নেতা জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা হয়। তার নির্দেশে বিদ্রোহীদের বিষয়ে নমনীয় থাকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হওয়ায় আবারো পরাজয়ের ভয়েই বিএনপি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে দল মনোনীত কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাদের প্রার্থিতা আমরা রাখবো না, বিকল্প প্রার্থী দেব।

উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করা মানেই হলো দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা। এর একটা শাস্তি তো রয়েছে। পরবর্তী মিটিংয়ে শাস্তিটা কি হবে এটা নির্ধারণ হবে।

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় বেশিরভাগ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট, ২০ দলীয় জোট, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচন বর্জন করেছে।

আওয়ামী লীগ ছাড়া দলটির নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক ও মহাজোটের মিত্র দলগুলো অংশ নিলেও বেশিরভাগ উপজেলায় মিত্রদের প্রার্থী নেই।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, অনেক উপজেলায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা রয়ে গেছেন। একই উপজেলায় একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন। ফলে বেশির ভাগ উপজেলায় লড়াই হবে আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ।

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আওয়ামী লীগের প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কুমার কর্মকার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান এবং উপজেলা যুবলীগের সাবেক সহসভাপতি মীর মো. শহিদুল ইসলাম।

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোস্তাকিম মণ্ডল দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তাইফুল ইসলাম তালুকদার।

আক্কেলপুরে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মোখছেদ আলী মাস্টার। বিদ্রোহী প্রার্থী আওয়ামী লীগের আবদুস সালাম আকন্দ।

একই চিত্র নাটোরের গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, নীলফামারীর ডোমার, জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর গাজীপুরের শ্রীপুরসহ আরো বেশ কয়েকটি জেলায়।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, প্রার্থী বাছাইয়ে দলের পক্ষ থেকে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে স্বাধীনতাবিরোধী কোনো পরিবারের সন্তানকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ।

দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের সময় এ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এজন্য চারটি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান তারা। এগুলো হচ্ছে-তৃণমূলে যিনি সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং গোপন ভোটে নির্বাচিত হবে-তাকেই মনোনয়ন দেয়া হবে।

অন্যদিকে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবারের কোনো সন্তান ও কমপক্ষে এক যুগ দলের নয় এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হয়নি।

কেন্দ্রীয় নেতারা জানিয়েছেন, এসব ব্যত্যয় ঘটলে অথবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে কারও প্রভাব থাকলে, কেউ কোনো অনিয়ম করলে এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে কেন্দ্র অবশ্যই হস্তক্ষেপ করবে।

চলতি মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপজেলা নির্বাচন এবার ৫ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ-মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশগুলোতে ভোট হয়েছিল।

১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি।

সেই ধারা বজায় রেখে এবার বিভাগওয়ারি ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সেক্ষেত্রে আট বিভাগের ভোট হবে চার দিনে। অর্থাৎ এক দিনে দুটি বিভাগে ভোট হবে। বাকি যেগুলো থাকবে, সেগুলোতে ভোট হবে পঞ্চম ধাপে।