বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার নতুন দিগন্তে ‘সেফ ফুডস’

0
49
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার নতুন দিগন্তে ‘সেফ ফুডস’

রাফী উল্লাহ,বাকৃবি: বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে মাইলফলক স্পর্শ করেছে। খাদ্যশস্য, মাছ-মাংস, শাক-সবজি, ফল উৎপাদন বেড়েছে ব্যাপকহারে। তবে উৎপাদনে সন্তোষজনক অবস্থা থাকলেও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে যে খাদ্য আমরা খাচ্ছি তার কতটুকু নিরাপদ? বাংলাদেশে ধান উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে তিনগুন। বর্তমানে ধান উৎপাদন হচ্ছে ৩ কোটি ৭৬ লক্ষ টন। বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে বিশে^ চতুর্থ এবং ইলিশ ও তেলাপিয়া মাছ উৎপাদনে বিশে^ প্রথম। মাছের তুলনায় মাংসের ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মাঝে অনেক বেশী। মাংস উৎপাদনে প্রধানত মুরগির মাংস উৎপাদন করা হয় ১৫০০ মেট্রিক টন। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা ও জাতি সংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা অনুযায়ী গড়ে জনপ্রতি বছরের মাংস খাওয়া হয় ১৫.২৩ কেজি অথচ তার খাওয়ার প্রয়োজন ৪৩.৮ কেজি, অর্থাৎ প্রায় তিনগুন কম খাওয়া হচ্ছে। উৎপাদন যেমনইহোক এখন জাতির প্রশ্ন খাদ্য হিসেবে আমরা যা গ্রহন করছি তা কতটুকু নিরাপদ? নিরাপদ খাদ্য নিয়ে ভোক্তদের মধ্যে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বেড়েই চলেছে। মানুষ প্রধানত খায় ক্ষুধা মেটানোর জন্যে, অর্থাৎ বেঁচে থাকার জন্য । কিন্তু সুস্থ্য থাকার সাথে খাদ্যের সম্পর্ক অনেক গভীর। পেট ভরার জন্যে খাওয়া আর শরীরে শক্তি যোগাবার জন্যে খাওয়া ভিন্ন ব্যাপার। দুঃখজনক হচ্ছে, পেট ভরার জন্যে খেয়ে শরীরের ক্ষতি হতে পারে এমন খাদ্যও আছে। সেই খাদ্য আর খাদ্য থাকে না যদি তা শরীরের শক্তির যোগান না দিয়ে ক্ষতির কারণ হয়। বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে ‘সেফ ফুডস’। সেফ ব্রয়লার, সেফ এগ এবং সেফ ব্রাউন রাইস দিয়ে তাদের যাত্রা শুরু। ফার্মে এবং ফিডে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং বোন মিল না মিশিয়ে নিজস্ব ফর্মুলায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ^বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী এবং সামাজিক উদ্দ্যোক্তা ব্রয়লারের নিরাপদ খাদ্য তৈরী করেছে। সিন্থেটিক ওষুদের পরিবর্তে হারবাল

ট্রিটমেন্ট দিয়ে ব্রয়লারের রোগ বালাই নিয়ন্ত্রন করার পদ্ধতি বের করেছে। হালাল উপায়ে জবাই, ড্রেসিং এবং সঠিক কোল্ড চেইন মেনে তারা ভোক্তাদের কাছে সেফ ব্রয়লার পৌছে দিচ্ছে। এছাড়াও লেয়ারিং পিরিয়ডে কোনো এন্টিবায়োটিক এবং ফিড ফরমুলেশন, প্রস্তুতকরণ সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় করে সেফ ডিম উৎপাদন করছে তারা। ডিম কালেকশনের পওে পরিষ্কারকরণ, ধৌতকরণ এবং জীবানুমুক্তকরন করা হয় সেফ এগ উৎপাদনে। তাদের আরেকাটি পন্য সেফ ব্রউন রাইস যাতে অধিক মাত্রায় ফাইবার, পটাশিয়াম ফলেট, ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম বিদ্যমান। তারা চালের ব্রউন লেয়ার না ফেলে, পলিশারে পলিশ না করে ‘ গাঞ্জিয়া’ ভ্যারাইটির চাল উৎপাদন করছে যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। নিরাপদ খাদ্য অর্থ প্রত্যাশিত ব্যবহার ও উপযোগিতা অনুযায়ী মানুষের জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্য সম্মত আহার্য্য। খাদ্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং পবিত্র জিনিস। সাংস্কৃতিকভাবেও খাদ্য শুধু ভক্ষণ করার বিষয় নয়, এর সাথে মানুষে মানুষের সম্পর্ক, ভালবাসা, শ্রদ্ধা, সব কিছুই অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। যারা খাদ্য উৎপাদন করেন তাদের আসলে নিরাপদ খাদ্যই উৎপাদন ও বাজারজাত করতে হবে। শুধু খাদ্য উৎপাদনই যথেষ্ট নয়, সেফ ফুডের মত খাদ্যকে আরও নিরাপদ করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।