পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত এরশাদ

0
47
পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত এরশাদ

জয়নাল আবেদীন: সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রংপুরের পল্লী নিবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। রংপুরে তার নিজ বাসভবন নগরীর দর্শনা এলাকার পল্লীনিবাসে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে রাষ্টীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। এসময় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দাফন কালে এরশাদের ছোট ভাই দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচীব মশিউর রহমান রাঙ্গা, এরশাদের পুত্র সাদ এরশাদসহ ভারত থেকে আসা আতœীয় স্বজন, দলের কেন্দ্রীয় নেতা, নেতাকর্মী, এরশাদ ভক্ত সাধারণ মানুষসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল থেকেই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠে এসে ভিড় করছিলেন জানায়ায় অংশ নেওয়ার জন্য। রংপুরের সন্তান ও সাবেক রাষ্ট্র নায়ক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে শেষ বারের মতো দেখে তার জানায়ায় অংশ নেন। এসময় তাদের চোখে অশ্রæ, হাতে ফুল নিয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রংপুর ্ও এর আশপাশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন,পাড়া মহল্লা থেকে এসেছেন এরশাদকে শেষ বারের মত দেখতে এসেছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ। এরশাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রংপুরের দোকান মালিক সমিতি সকাল ৬টা থেকে দুপুর দুই টা পর্যন্ত নগরীর সমস্ত দোকান পাট বন্ধ বাখেন। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর পৌনে বারোটার দিকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারে করে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ আনা হয় রংপুর সেনানীবাসে। সেখান থেকে মরদেহ নিয়ে আসা হয় রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগায়ে। সেখানে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। শ্রদ্ধা জানান, রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, র‌্যাব-১৩ প্রধান, ডিসি এসপি, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পাটি বিএনর্পিসহ বিভিন্ন সাজাজিক, সাংস্কৃতি সংগঠনের মানুষেরা। মঙ্গলবারের জোহরের নামাজের পর দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে রংপুর ঈদগাহ ময়দানে এরশাদের নামাজে জানায়া অনুষ্টিত হয়। জানায়ায় ইমামতি করেন রংপুর রংপুর করিমিয়া উলুম মাদরাসার খতিব মুফতি মাওলানা মুহম্মদ ইদ্রিস আলী। জানায়ার মাঠ জন¯্রােতে পরিণত হয়। কালেক্টরেট ঈদগাহ মযদানে ঢল নামে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের জনতার। জানায়া শুরু হলে ঈদগা মাঠ, ক্রিকেট গার্ডেন, সুরভি উদ্যান, লেডিসক্লাবসহ এর আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে যায়। জানাযায় লক্ষাধীক মানুষ অংশ নেন। জানাযার আগে বক্তব্য দেন জাতীয় চেয়ারম্যান জিএম কাদের, মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, এরশাদ পুত্র স্বাদসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতারা। এ সময জিএম কাদের বলেন, রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় একজন পেয়ারা থেকে এরশাদ রাষ্ট্রপতি হয়ে উঠেছিলেন। রংপুরের মানুষের ভালোবাসায সিক্ত এরশাদ। বিশৃঙ্খলা এডাতে জানায়ার মাঠ ও নগর জুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুল

সংখ্যক পুলিশ। ঈদগা মাঠে মরদেহ আসার পর পরই পুলিশি বেষ্টনী ভেঙে মরদেহের কাছে ছুটতে থাকেন দলীয নেতাকর্মীরা। উপচে পড়া ভিড়ের মাঝে শুরু হয় ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো। নিজ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও আওয়ামীলীগ লীগ, বিএনপি ও তাদের অঙ্গ সংগঠনসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয। এ সময দলীয নেতাকর্মীরা এরশাদের মরদেহ রংপুরে দাফনের জন্য শ্লোগান দিতে থাকেন। জানায়া শুরুর আগে এরশাদের লাশ কোথায় দাফন করা হবে এই নিয়ে শুরু হয় চরম হট্টোগোল। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে স্থানীয় নেতা- কর্মীদের বাক বিতন্ডা । স্থানীয় নেতা-কর্মীরা রংপুরের পল্লীনিবাসের লিচু তলায় এরশাদকে দাফনের জন্য অনড় থাকে। কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে দুপুর দুইটা ২৫ মিনিটে জানায়া শুরু হয়। জানায়া শেষে লাশবাহী গাড়ির নিয়ন্ত্রন নেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচীব ও নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির। এসময় মাইকে লাশবাহী গাড়ীকে বেরিকেট দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহবান জানানো হয়। দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের সময় রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগা মাঠ থেকে দাফনের উদ্দেশ্যে লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়ি ৪ কিলোমিটার দুরে নগরীর দর্শণা এলাকায় এরশাদের পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়। এসময় রংপুর প্রধান সড়কের দুই পাশে অসংখ্য মানুষ দাড়িয়ে থেকে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। লাশের মিছেলে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশ নেন। লাশবাহী গাড়ি পল্লীনিবাসে পৌছিতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘন্টা ২০ মিনিট। এর পর রংপুর সেনানিবাসের সেনা সদস্য লেঃ কর্ণেল জাকারিয়ার নেতৃত্বে সেনাবাহিনির একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। গার্ড অব অনার প্রদান শেষে রংপুর সেনানিবাসের ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের প্রধান ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার কফিনে পুস্পমাল্য অর্পন করেন। এরপর সকল আনুষ্টানিকতা শেষে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে তাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। এরশাদ রংপুর ৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন । তিনি এ আসন থেকে টানা ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।