মনে হয় সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস, একেবারে বিকিয়ে গিয়েছি

0
83
প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী

কাগজ প্রতিবেদক: প্রবীণ সাংবাদিক কামাল লোহানী বলেছেন, দেশের সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের ধস নেমেছে মান এবং সম্মানের দিক দিয়ে। অবস্থা দেখে মনে হয় সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস। গতকাল সাপ্তাহিক নতুন কথার ৪০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে কামাল লোহানী বলেন, আজকে আমরা একেবারে বিকিয়ে গিয়েছি। আমাদের ধস নেমেছে। মানের দিক থেকে এবং সম্মানের দিক থেকে। মানে যেভাবে ধস নেমেছে তেমনিভাবে সম্মানেরও ধস নেমেছে। আজকে কোনো সম্মান সাংবাদিকরা পায় না।
আগে সাংবাদিকরা যে লেখাটি লিখতেন, উপসম্পাদকীয় অথবা সম্পাদকীয়টা লিখতেন। সেগুলো সমস্ত মালিক বা সরকারের কানে পানি যেতো। কিন্তু এখন পানি কেন, কিছুই যায় না। তারা তোয়াক্কাও করে না।
এবং মাঝে মাঝে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দেখি এমনভাবে কথা বলেন, তাতে করে মনে হয় যে সাংবাদিকরা সব দাসানুদাস…। তার কথা শুনার জন্য সবাই গেছে। রিপোর্ট করার জন্য নয়। অদ্ভুত লাগে আমাদের কাছে, তিনি যেভাবে ধমকান। এ ধমকানোর মতো স্বভাব এটা খুব দুঃখজনক যে সাংবাদিকদের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করেন। অথচ তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আজকে আমি একটা অভিজ্ঞতার কথা বলি, আমরা তখন সাংবাদিক ইউনিয়ন করি। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। নির্মল সেন, গিয়াস কামাল চৌধুরী, আমি এবং রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ কোনো এপয়নমেন্ট ছাড়া আমরা গিয়ে হাজির হয়ে যেতাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে। এবং তিনি আমাদের জন্য দরজা খোলা রাখতেন। আর আজকে, চেষ্টা করেও, বহু কষ্ট করে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অপেক্ষায় থাকেন।
কুসম কুমারী দাসের লেখা আমরা ছোটবেলায় পড়েছি, আমাদের দেশে কবে সেই ছেলে হবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে। এই কবিতা বাদ হয়ে গেলো? আমরা ছোটবেলায় পড়েছি, আমদের ছেলেরা পড়েছে নাতিরা পড়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে সেই জিনিসটা খুঁজে পাচ্ছি না। আর সবচাইতে বড় যে জায়গাটা, সেটা হলো গণমাধ্যমে যে আজকে প্রতিবাদের কথা, লেখার সাহস থাকা উচিত ছিল, আজ সেই সাহসটি আমাদের নেই কেন? আমরা ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে লিখতে পেরেছি, আইয়ুব খানের এরকম কঠিন মার্শাল ল’-এর বিরুদ্ধে আমরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতর জন্য চিৎকার করতে পেরেছি। আমরা মাওলানা আকরাম খাঁ নিয়ে মিছিল করেছি। এখন কোথায় যায় মিছিল। এখান থেকে সেখানে যায়। আর সেই দিনকার মিছিল সাংবাদিকরা করেছিল তার সঙ্গে মানুষ জমা হয়ে প্রেসক্লাব থেকে আরম্ভ করে বায়তুল মোকারম দিয়ে সদর ঘাট হয়ে চকবাজার হয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়েছিল। ভাবতে পারেন?
আজকে কোনো রাজনৈতিক দল পর্যন্ত সেই মিছিল করে না। কেন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে? আজকে ইউনিয়ন না থাকলে শ্রমজীবী মানুষের কাছে যাবেন কী করে? কৃষকের কাছে যাবেনটা কী করে?
তিনি বলেন, আজকে আমরা এই প্রেসক্লাবে বসে ২৩শে মার্চ ৭১ সালে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নে আমরা প্রস্তাব দিলাম, আজ থেকে মার্শাল ল’ রিজিমের কোনো সংবাদ এবং ছবি, প্রেসনোট, কোনো কিছুই সংবাদপত্রে ছাপা হবে না। আজকে ভাবতে পারেন এই কথা বলছি…। আজকের ইউনিয়নগুলো সেইভাবে কোনো শক্তিই দেখাতে পারছে না। আজকে নিজেদের লড়াইটাকে নিজেরা এমনভাবে ইয়ে করেছেন যে সংবাদপত্রের মালিক বা সরকারের কাছে তারা একেবারে নতজানু হয়ে আছে। তাই ‘মুক্তিযুদ্ধ ও গণমাধ্যম’ এই দুটোকে রিলেট করে কথা বলা বড় কষ্টকর।