মৃত্যুর আগে যা বলে গেছেন আইনজীবী পলাশ

কাগজ প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলা কারাগারে আইনজীবী পলাশ রায় মৃত্যুর আগে বয়ানে বলে গেছেন প্রতিপক্ষের নৃশংসতার কথা। বলেছেন, মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আদালতে নেয়ার পর পুড়িয়ে হত্যার কাহিনী। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কারাকর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে বলা হয় আত্মহত্যা করেছেন পলাশ।

তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী এক মাসের মধ্যে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নিজের বিরুদ্ধে কোহিনুর কেমিক্যাল কোম্পানির করা প্রতারণার মামলার প্রতিবাদ করতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় গিয়েছিলেন আইনজীবী পলাশ রায়। সেই মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটুক্তির ভিত্তিহীন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক ব্যক্তি রাজিবের করা মামলায় গত ২৫ মার্চ পলাশকে গ্রেফতার করে র্যাব। প্রতারণার মামলায় ২৬ এপ্রিল পলাশ রায়কে ঢাকার আদালতে হাজির করার কথা ছিলো। ওই দিন সকালেই ঘটে লোমহর্ষক এ ঘটনা।

কারাগারের ভেতরেই অগ্নিদগ্ধ হন পলাশ রায়। পুড়ে যায় তার শরীরের ৪৭ ভাগ। প্রথমে রংপুর মেডিকেলে নেয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভর্তি করা হয় ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে। গত ৩০ এপ্রিল মারা যান পলাশ।

মৃত্যুর আগে ডায়িং ডিকলারেশনে আইনজীবী পলাশ রায় বলে গেছেন প্রতিপক্ষের নৃশংসতার কথা।

পলাশের সেই অডিও বার্তাটিতে পলাশ বলেছেন, ২৬.০৪.২০১৯ শুক্রবার বেলা সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকার দিকে ২ জন লোক আমার শরীরে টাইগার বোতল থেকে কি যেন ছুঁড়ে দিয়ে আমাকে আগুন লাগিয়ে আমার জীবনটিকে আজকের এই মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়। এই অপরাধীদের বিচার চাই।

যদিও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোখলেছুর রহমান আদালতকে জানান, পলাশ আত্মহত্যার জন্য গায়ে আগুন দিয়েছিল বলে তিনি জেনেছেন। তারপরও ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এই আইনজীবী বলেন, প্রাথমিকভাবে ২৬ তারিখে ডেপুটি কমিশনার যে কমিটি গঠন করেছিল সেখানে একটা কথা এসেছে যে কারা অভ্যন্তরে আগুনে পুড়ে সুইসাইড করার ঘটনা ঘটেছে, এ ধরনের একটি শব্দ তিনি ব্যবহার করেছেন।

পরে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাটি তদন্তে পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

রিটকারী আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জানান, পঞ্চগড় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাঁর তত্ত্বাবধানে আরেকজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেবেন। ৩০ দিনের ভিতর এই রিপোর্টটা আবার আদালতে জমা দেবেন।

আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট সচিব, কারা মহাপরিদর্শক, পঞ্চগড় জেল সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের হাইকোর্টের এ আদেশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। পলাশ কুমার রায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন