মোদির বুধবারের উল্লাস-হতাশা নিয়ে যা বলছে আনন্দবাজার

0
71

কাগজ ডেস্ক: সিলেবাসের বাইরেই কাজ করেন তিনি। ফুরফুরে মেজাজে সকালেও সে কথা বোঝাচ্ছিলেন যুবকদের।
সদ্য গত কাল পাকিস্তানে সেনা অভিযানের পর ভোটের অঙ্ক গুনছিলেন নরেন্দ্র মোদী। জাতীয়তাবাদের আবেগে ঢাকতে চাইছিলেন এত দিন ধরে ওঠা অভিযোগগুলো। বিজ্ঞান ভবনে যুবসমাজের সামনে কখনও ইশারায় বলছেন, নীরব মোদীর মতো ‘ধনী’রা পালিয়ে যান। কিন্তু গরিবদের জন্য আছেন তিনি। কখনও বা রাজ্যসভার সাংসদদের ‘বয়স্ক’ বলে কটাক্ষ করছেন। যুবকদের থেকে আসা প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছিলেন।
এমন সময়ে হাতে এল চিরকুট। আকাশে ‘যুদ্ধ’ চলছে ভারত-পাক। ভারতীয় বায়ুসেনার এক পাইলটকেও আটকে রেখেছে পড়শি দেশ। তড়িঘড়ি প্রশ্নোত্তর পর্ব সেরে বিজ্ঞান ভবন ছাড়লেন মোদী। ‘সাজানো বাগান’টি যেন নিমেষে তছনছ হয়ে গেল।
ঠিক যেমন অরুণ জেটলিরও। সকালেই তিনি নজির টানছিলেন, পাকিস্তানে ঢুকে মার্কিন সেনার বিন লাদেনকে হত্যা করার ঘটনার। প্রশ্ন তুলছিলেন, ‘‘আমরা কেন পারব না?’’
এ দিন বিকেলে হতাশ গলায় এক বিজেপি নেতা বললেন, ‘‘সত্যিই একদিনে বদলে গেল ছবিটা।’’ কাল থেকে বিজেপি শিবিরে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা নিলামের মতো উঠছিল মুখে মুখে— ‘‘পাকিস্তানে ঢুকে জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশ করলেন নরেন্দ্র মোদী, লোকসভায় আড়াইশো আসন তো নিশ্চিত।’’ তাঁকে থামিয়ে অন্য জন: ‘‘তিনশো নয় কেন?’’ ‘‘তা হলে চারশোই হোক!’’ প্রথম জন, ‘‘সেটি একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে না?’’
যাবতীয় হিসেব-নিকেশ আজ বন্ধ হয়ে গেল বায়ুসেনার পাইলট আটক হওয়ার পর। প্রধানমন্ত্রীও ফের দফায় দফায় বৈঠক করা শুরু করলেন অজিত ডোভাল আর সেনা কর্তাদের সঙ্গে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে বাদ দিয়েই। সোশ্যাল মিডিয়ায় কংগ্রেসও ছড়াতে শুরু করল— মনমোহন সিংহের সময় পাকিস্তানে ঢুকে হামলা না হোক, সীমান্ত শান্ত ছিল। এখন তো নিজের ভোট বাড়ানোর জন্য সীমান্তেও উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছেন মোদী।
চব্বিশ ঘন্টায় মোদীকে ফের চাপে পড়তে দেখে আক্রমণাত্মক হওয়া শুরু করলেন রাহুল গান্ধী থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রাও। সনিয়া গান্ধীর উপস্থিতিতে ২১টি দলের বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে তুলোধোনা করা হল মোদীকে। বলা হল, জাতীয় নিরাপত্তা শিকেয় তুলে সেনাকে নিয়ে সঙ্কীর্ণ রাজনীতি দুঃখজনক।
কংগ্রেসের এক নেতা বলেন, ‘‘এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী কাল ভিডিয়ো কনফারেন্সে একযোগে ১৫ হাজার কেন্দ্র খুলে সমর্থকের সঙ্গে কথা বলবেন বলে বিজেপি প্রচার শুরু করেছে। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহও দলের কাজে চলে গিয়েছেন ছত্তীসগঢ়ে। অথচ দেশের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাহুল গাঁধী আগামিকাল গুজরাতে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ও জনসভা বাতিল করেছেন। মোদীর থেকে সেই সৌজন্যও প্রত্যাশা করা যায় না!’