বাকৃবিতে উদ্ভাবিত হলো পাংগাসের আচার ও পাউডার

0
83

রাফী উল্লাহ, বাকৃবি: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মৎস্য প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ কে এম নওশাদ আলম ও তাঁর গবেষক দলের ২ বছরের গবেষনায় পাংগাসের আচার ও পাউডার উদ্ভাবন করেছেন। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় মিঠা পানির মাছের আহরণোত্তর ক্ষতি প্রশমন ও মূল্য সংযোজন প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়। পাংগাস একটি চর্বিযুক্ত মাছ। এর চর্বি ও আমিষকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সংরক্ষন উপযোগী করে পাংগাস পাউডার তৈরি করা হয়েছে। এক কেজি পাংগাস থেকে ২০০-২৫০গ্রাম পাউডার তৈরি করা সম্ভব। পাংগাসের পাউডার দীর্ঘদীন প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। পাংগাসের পাউডার দিয়ে আচার, ভর্তা, স্যুপ, নুডল্ধসঢ়;স, তরকারি খিচুরি ইত্যাদি বানানো যায় অথবা একে পাউডার দুধ বা নবজাতকের খাবার, বেকারী পণ্য, বিস্কুট চিপস্ধসঢ়; বা অন্যান্য যে কোন খাদ্য দ্রব্যে মিশিয়ে পুষ্টিগুন বাড়ানো যায়। মাত্র ১.৫০ টাকা মূল্যের ৩ গ্রাম পাউডার দিয়ে এক জনের খাওয়ার উপযোগি ২৫০ মিলি স্যুপ বা ৮০ গ্রাম ওজনের ১বাটি নুডল্ধসঢ়;স তৈরি করা সম্ভব। পাংগাসের পাউডারে ৪৫ ভাগ আমিষ, ৩২ভাগ চর্বি, ১ভাগ মিনারেল ও ৯ভাগ ফাইবার পাওয়া গেছে। পংগাসের আচারটি শুকনো ও মচমচে হওয়ায় দীর্ঘদীন প্রায় এক বছরের অধিক কক্ষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যাবে। আচারটিতে পুষ্টিমান পাওয়া গেছে শতকরা ৩৭ভাগ আমিষ, ২৮ ভাগ ¯েœহ, ১৬ ভাগ মিনারেল ও ১১ ভাগ ফাইবার। এক কেজি পাংগাস থেকে

৩৫০ গ্রাম পাংগাস আচার পাওয়া যায় যা উৎপাদন করতে সর্বমোট ১২০-১৫০ টাকা খরচ পড়ে। ৩৫০ গ্রাম আচার ৪০০- ৪৫০ টাকায় বিক্রয় করা সম্ভব। সাধারণ রান্নার যন্ত্রপাতি ও তৈজসপত্র দিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রেখে যে কেউ মচমচে পাংগাস আচার তৈরি করতে পারবে। সস্তা ও সহজলভ্য পাংগাস মাছ গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত। তাড়াতাড়ি বড় হওয়ার কারণে থাইল্যান্ডের একটি জাত আমাদের দেশে চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম বা থাইল্যান্ড উন্নত চাষ পদ্ধতি ব্যবহার করে উন্নত মানের সাদা ফিলেট তৈরি করে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করছে। আমাদের দেশে নানা কারণে পাংগাস চাষ পদ্ধতি উন্নত ও আধুনিক করা যাচ্ছে না ফলে রপ্তানি সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে অন্যান্য মাছের উৎপাদন ও যোগান বেড়ে যাওয়ায় পাংগাসের বাজার মূল্য পড়ে গেছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাংগাসের উৎপাদন ছিলো ৭.৫ লক্ষ মেট্রিক টন বর্তমানে উৎপাদন কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। খাদ্যসহ অন্যান্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাষীরা লোকসান গুনছেন অনেকে পাংগাস চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য পাংগাস মাছ থেকে পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন করা প্রয়োজন।