মশার লার্ভি ভক্ষণ করবে মশাভুক মাছ

0
27
মশার লার্ভি ভক্ষণ করবে মশাভুক মাছ

রাফী উল্লাহ,বাকৃবি: বর্তমানে বাংলাদেশে ডেঙ্গু ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে। ডেঙ্গু মশার প্রধান বাহক হলো দুই প্রজাতির এডিস মশা। এডিস মশাকে নিধন করতে পারলে এ রোগের বিস্তার কমানো সম্ভব। যেহেতু এডিস মশা বদ্ধ পানিতে ডিম ছাড়ে তাই কোনভাবে এই ডিমকে বিনষ্ট করতে পারলেই এডিস মশাকে নিধন করা সম্ভব হবে। আর পানিতে ‘মশাভুক মাছ’ (গড়ংয়ঁরঃড় ঋরংয) ছাড়ার মাধ্যমে মশার ডিম নিধন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বাকৃবির একদল গবেষক। গবেষক দলের প্রধান ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ জানান, ২০১৭ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চট্টগ্রামের কিছু ড্রেনে মশার ডিম ভক্ষনে কয়েকটি মাছের দক্ষতা নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলাম। গবেষণায় দেখা গেছে মশার লার্ভি ভক্ষনে দেশীয় খলিশা, দারকিনা, জেব্রা ফিশ মসকিউটো ফিশের চেয়ে বেশি উপযোগী হলেও এরা নর্দমার নোংরা পানিতে বেশিদিন বাাঁচতে পারে না। তাই নর্দমার পানিতে মশার লার্ভি নিধনে মসকিউটো ফিশ সবচেয়ে বেশী উপযোগী। মসকিউটো ফিশ প্রায় ১০ বছর আগে অ্যামেরিকা থেকে অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে দেশে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে দেশের মুক্ত জলাশয় এবং ড্রেনে এটি ছড়িয়ে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, দেশের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় এডিস মশার লার্ভি ধ্বংস করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের পাশের ড্রেনে (প্রায় ৭-৮ হাজার) মসকিউটো ফিশ অবমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. লুৎফুল হাসান। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে এ কর্মসূচী গ্রহন করা হয়। মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. গিয়াস উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো- ভিসি অধ্যাপক ড. মে. জসিমউদ্দিন খান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হক, প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. হারুনুর রশীদ সহ মাৎস্যবিজ্ঞান ও অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকরা । এছাড়াও এ উদ্যাগের অংশ হিসেবে আগামী ৮ আগষ্ট বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন ড্রেনে এ মাছ ছাড়া হবে।

ভিসি অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান বলেন, দেশের ডেঙ্গুর এই মারাত্বক পরিস্থিতিতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে মশা নিধনের নতুন নতুন প্রযুক্তি প্রয়োগ করতে হবে। তেমনি একটি হলো মশা নিধনের বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি অর্থাৎ মাছ দিয়ে

মশার লার্ভিকে ভক্ষণ করানো। তাই দেশের সব বদ্ধ পানিতে এ মাছ ছাড়া হলে এই দুর্যোগ অনেকটাই মোকাবেলা সম্ভব।