রাবি ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চুরির মামলা

0
37
রাবি ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে চুরির মামলা

কাগজ প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়াসহ ছাত্রলীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লিচু চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখা এলাকার আবদুল্লাহ ইবনে মনোয়ার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজশাহী চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ১৫ মে মামলাটি দায়ের করেন।

আগামী ১৬ জুলাই আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশা মঙ্গলবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন, আইন বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান আলী, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কানন, উপ-আন্তজার্তিকবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান আশিক ও কর্মী মেহেদী হাসান বিজয়।

এছাড়াও ক্যাম্পাসের বহিরাগত কিন্তু ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষে থাকেন মো. আকাশ নামে একজনকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার আসামিরা দুর্দান্ত চাঁদাবাজ, দাঙ্গাবাজ, পরধন লোভী। আসামিরা সমাজে এমন কোনো খারাপ কাজ নেই যে তারা করতে পারে না।

বাদী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনস্থ গোদাগাড়ী বাগানের আম ও লিচু চলতি মৌসুমসহ (২০১৯-২০) এই দুই মৌসুমের ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯৯ টাকা ১০ পয়সায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নেন।

লিজের সময় অতিক্রান্ত হওয়াকালীন ওই ছাত্রলীগ নেতারাসহ আরও ১৫-২০ জন গত ৭ মে রাত ৮টার দিকে গোদাগাড়ী বাগানে প্রবেশ করে অবৈধ অস্ত্রশস্ত্রসহ মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বাদীর কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

এ সময় বাদীর সঙ্গে সাক্ষীরাও থাকায় আসামিরা কোনো অঘটন ঘটাতে না পেরে আসামিরা বাদীকে হুমকি দেয়। তারা বাদীকে দুই দিনের মধ্যে দুই লাখ টাকা পৌঁছে দিতে বলেন। না হলে বাদীকে বাগান থেকে আম ও লিচু না পাড়তে দেয়ার হুমকি দেয়।

অবশেষে ঘটনার দিন ৯ মে বিকাল ৪টায় ওই আসামিরাসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জন মিলে বাগানের লিচু পাড়তে থাকে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বাগানের পাহারাদার লিচু পাড়তে নিষেধ করলে ১ নম্বর আসামি গোলাম কিবরিয়া বাদীকে কিল ঘুষি মারে এবং মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বাগান থেকে দূরে সরে যেতে বলে। আসামিরা সবাই মিলে বাগানে প্রায় দেড় লাখ টাকার লিচু চুরি করে।

বাগানের পাহারাদার কিছু দূরে গিয়ে মোবাইল ফোনে বাদীকে ঘটনাটি জানালে আসামিরা চুরিকরা লিচুসহ দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আসামিরা এখনও চাঁদার হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এতে বাদীর জীবন হুমকির মুখে রয়েছে।

এজাহারে আবদুল্লাহ ইবনে মনোয়ার উল্লেখ করেন, এ ঘটনায় মতিহার থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে ওসি মামলাটি গ্রহণ না করে আদালতে এসে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে আত্মীয়স্বজন ও নিকটজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আদালতে এসে মামলা দায়েরে সামান্য বিলম্ব হয়।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া বলেন, কোনো ধরনের চাঁদা দাবি করিনি। আমাকে ও রাবি ছাত্রলীগকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করতে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে। এটি তারই অংশ। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেব।