রাজু ভাস্কর্যে ঈদ করলেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

0
25
রাজু ভাস্কর্যে ঈদ করলেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা

কাগজ প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ঈদ করেছেন ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা। ৩০১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে বঞ্চিতদের পদায়নের দাবিতে ১৩তম দিনের মতো শুক্রবার তারা অবস্থান করেন। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও তারা টানা অবস্থান করছেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা ছাত্রলীগের শীর্ষ কোনো নেতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। ২৬ মে রাত ১টা থেকে দ্বিতীয় দফায় তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

১৩ মে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও বিতর্কিতদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। প্রথম দফায় ১৭ জন বিতর্কিতের নাম ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েও তা করা হয়নি। দ্বিতীয় দফায় ২৮ মে রাত ১টায় ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করলেও তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। কারণ এ ১৯ জনের নাম বা পদ প্রকাশ হয়নি।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনাবিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, বিতর্কিতদের বাদ দেয়া নিয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বারবার যে নাটক জন্ম দিয়েছেন এর মাধ্যমে নেতাকর্মীদের মধ্যে তাদের নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যায়-অপকর্মে জড়িত ও বিতর্কিতদের সংগঠন থেকে বাদ দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

রাকিব হোসেন আরও বলেন, রাজু ভাস্কর্যেই ঈদ করেছি আমরা। আমাদের ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ঈদে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতা বা ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউ দেখতেও আসেনি আমাদের। আমরা আপার (শেখ হাসিনা) কাছে যেতে চাই। তার কাছে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। আমরা অপরাধীদের বিষয়ে অকাট্য প্রমাণসহ তথ্য উপস্থাপন করব। এরপর নেত্রী যা সিদ্ধান্ত দেন মাথা পেতে মেনে নেব।

ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণাবিষয়ক উপসম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন বলেন, বিতর্কিতদের রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। নেত্রীর নির্দেশনা না মেনে রাজাকারের সন্তান ও জামায়াত-শিবিরের সন্তানদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দেয়া হয়েছে। যা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বেইমানি। নেত্রীর নির্দেশনা অমান্য করে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে তারা নিজেদের কীভাবে ‘নেত্রীর ছাত্রলীগ’ বলে দাবি করেন? নেত্রীর কাছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।

এদিকে ১৯টি পদ শূন্য ঘোষণা করা হলেও কারও নাম বা পদ প্রকাশ করা হয়নি। শূন্য পদের নাম ঘোষণা না করার বিষয়ে শুক্রবার ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, যেসব পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে তাদের সংগঠন থেকে অব্যাহতিও দেয়া হয়নি, বহিষ্কারও করা হয়নি। যেহেতু অভিযোগ এসেছে তাই ১৯টি পদ কেবল শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের এমন বক্তব্যকে ‘ছলচাতুরী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে পদবঞ্চিত নেতা সদ্য বিদায়ী কমিটির দফতরবিষয়ক উপসম্পাদক শেখ নকিবুল ইসলাম সুমন বলেন, বিতর্কিতদের বাদ না দিয়ে ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করা হয়েছে। ১৯টি শূন্য পদের নাম ঘোষণা করতে আমরা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। তাও মানা হয়নি। এভাবে সংগঠন চলতে পারে না। তিনি বলেন, নেত্রীকে ভুল বোঝানো হয়েছে। আমরা নেত্রীর সাক্ষাৎ চাই। আমরা পুরো বিষয়টি তার কাছে তুলে ধরতে চাই।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী বলেন, বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে আমাদের কোনো অনীহা নেই। বরং সদিচ্ছা রয়েছে। আর এ জন্যই পদগুলো শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। নেত্রী যেহেতু আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক, তাই তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তিনি দেশে এলে তার কাছে অভিযুক্তদের নাম, পদ ও অভিযোগ উত্থাপন করা হবে। পরে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করব।

ঈদের দিন সকালে রাজু ভাস্কর্যে আন্দোলনকারীদের দেখতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি সবার জন্য সেমাই নিয়ে আসেন। দুপুরের খাবার নিয়ে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলের প্রাধ্যক্ষ। সেমাই নিয়ে আসেন ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র জোট মনোনীত ভিপি প্রার্থী অরণি সেমন্তি খান।