বাকৃবির উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনুষদপ্রীতির অভিযোগ

0
111

রাফী উল্লাহ: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনুষদ প্রীতির অভিযোগ ওঠেছে। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বিভিন্ন পদে নিজ অনুষদের শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। শুধু তাই নয় বিশ্বিবিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটিতেও অগ্রাধিকার পাচ্ছেন উপাচার্যের অনুষদের শিক্ষকরা। বর্তমানে উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ প্রায় ডজন খানেক পদ দখল করে আছে ওই অনুষদের শিক্ষকরা। উপাচার্যের অনুষদ প্রীতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকরা। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের পশুপুষ্টি বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেন একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খানকে। পরবর্তীতে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করেন। ওই সময় ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা নিয়োগ দেন পশুপালন অনুষদের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড.সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরীকে। সর্বশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল হককে। তিনি এই উপাচার্যের সময়েই নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ পায়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাইফুল ইসলামও পশুপালন অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক ওই অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম. এ. এম ইয়াহিয় খন্দকার, বিশ্ববিদ্যালয় হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খানকেও নিয়োগ দেন। এর আগে তিনি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে তিনটি হলের প্রভোস্টের দায়িত্বে আছেন পশুপালন অনুষদের শিক্ষকেরা। শহীদ শামসুল হক হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড.

মোহাম্মদ আল মামুন নিয়োগ পেয়েছেন একই সাথে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় বাজার কমিটিরও সদস্য। এছাড়াও অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ এহসানুর রহমানকে, নাজমুল আহসান হলের এবং ড. ফৌজিয়া সুলতানাকে তাপসী রাবেয়া হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পশুপালন অনুষদের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনকে কেবি কলেজের সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সাথে তাকে ক্যাম্পাসের পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা মনিটরিং কমিটি, ২০৪১ এ ক্যাম্পাসের অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্গানোগ্রাম কেমন হবে সে সক্রান্ত আরও একটি কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটিরও সদস্য। এছাড়াও পশুপালন অনুষদের খান মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পরিবহন শাখার পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে পশুপালন অনুষদের শিক্ষককেরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এই বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক বলেন, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনে যে পরিমানে অনুষদ কোরাম করেছেন তা নজিরবিহীন। অন্য অনুষদগুলোতে প্রশাসনিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের বঞ্চিত করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট অনুষদের শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়েছেন। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর বলেন, অতিরিক্ত রেমোনেটিভ পোস্ট গুলোতে শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যের একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। প্রশাসনের সকল দিক সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষনার পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সকলের সাথে পরামর্শ করে যোগ্য ব্যক্তিদেরই বছাই করে নিয়োগ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ওই শিক্ষকের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং কাজের প্রতি আন্তরিকতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। কোনো একটি নির্দিষ্ট অনুষদ বিবেচনা করে নিয়োগের প্রশ্নই আসে না।