নীলফামারীতে নদী সোজাকরণ ও তীর সংরক্ষণে ১৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প

0
12

মহিনুল ইসলাম সুজন: নীলফামারী জেলার আওতাধীন তিনটি উপজেলায় (নীলফামারী সদর, কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা) নদী ভাঙ্গন রোধ, নদী তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী’র বহির্ভূত নতুন একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে নীলফামারী জেলার চাড়ালকাটা নদী সোজাকরণ এবং বুড়িতিস্তা নদী তীর সংরক্ষণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয়েছে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। সম্প্রতি একনেক বৈঠকে প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেগুনাই-চাড়ালকাটা-যমুনেশ্বরী নদীটি নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার নিম্নাঞ্চল থেকে উৎপত্তি হয়ে নীলফামারী ও রংপুর জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দিনাজপুর জেলার করতোয়া নদীতে পতিত হয়েছে। সর্পিল আকার এই নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১১৬ কিলোমিটার। নদীটি নীলফামারী সদর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার কাছাকাছি একটি বড় ধরনের লুপের সৃষ্টি করেছে। এর ফলে নদীটির পার্শ্ববর্তী জনপদ ও সকল স্থাপনা ক্ষতিস্থ হচ্ছে এবং কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে বুড়িতিস্তা নদীর উভয় তীরে ১৯৮০-৮১ সালে নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাঁধটিও এখন ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড’-এর উদ্যোগে প্রকল্প এলাকায় একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ওই কারিগরি কমিটির সুপারিশের আলোকে এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বুড়িতিস্তা নদীর ডান ও বাম তীরের ভাঙ্গন থেকে ‘বুড়িতিস্তা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ’ রক্ষা এবং নীলফামারী জেলার চাড়ালকাটা নদী ভাঙ্গন থেকে প্রকল্প এলাকায় অবস্থিত অবকাঠামো-স্থাপনা-সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে।প্রকল্প এলাকায় বন্যার প্রকোপ হ্রাস-পূর্বক খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়বে এবং প্রকল্প এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। জানা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে ১৬ কোটি ১১ লাখ টাকা, আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ৪১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে ৪৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ও ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে ৪৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় যেসব কাজ করা হবে: বুড়িতিস্তা নদীর ১৩ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন, চাড়ালকাটা নদী সোজাকরণে ৭৫০ মিটার (১ দশমিক ৮৬ লাখ ঘনমিটার) লুপ-কাট খনন, লুপ-কাটের মধ্য দিয়ে পানি প্রবাহ নিশ্চিতকরণে চাড়ালকাটা নদীতে ৮৫ মিটার দীর্ঘ একটি ক্লোজার এবং নদী প্রবাহের শক্তি হ্রাসে লুপকাটের স্থানে দেড় কিলোমিটার ড্রপ স্ট্রাকচার নির্মাণ, ১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ, বুড়িতিস্তা নদীর ৩ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, ১ দশমিক ১৮ কিলোমিটার নদী তীর সংরক্ষণ কাজ মেরামত ও

রক্ষণাবেক্ষণ করা, ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বুড়িতিস্তা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামত ও পুনরাকৃতিকরণ, ৫৫ মিটার দীর্ঘ ও ১০ দশমিক ৭১ মিটার চওড়া একটি ব্রীজ নির্মাণ।