উল্লাপাড়ায় নিলামে প্রতিটি চামড়ার দাম ৩’শ ৪০ টাকা

0
36
উল্লাপাড়ায় নিলামে প্রতিটি চামড়ার দাম ৩’শ ৪০ টাকা

সাহারুল হক সাচ্চু: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কোরবানীর পশু গরু চামড়া অনেক কম দামে কেনা বেচা হয়েছে। মাঝারি মাপের একটি গরুর চামড়া সাড়ে তিন থেকে চার’শ টাকায় কেনাবেচা হয়েছে বলে জানা যায়। চামড়ার মৌসুমী ফড়িয়ারা ব্যবসায় আশানুরুপ লাভ করতে পারেনি। গ্রাম ঘুরে চামড়া বেচতে এদেরকে বিভিন্ন এলাকায় আড়তে ছোটাছুটি করতে হয়েছে। এদের কারো কারো ব্যবসায় লোকসান হযেছে বলে জানা গেছে। এদিকে ব্যবসায় চালান (মুলধন) কমে মহাজনদের অনেকেই কম সংখ্যক চামড়া কিনেছে। একটি মাদরাসায় গ্রামবাসীদের দান করা কোরবানীর ৮৪টি গরু চামড়া অবশেষে নিলাম ডাকে গড়দামে ৩শ ৪০ টাকা করে প্রতিটি বিক্রি হয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলায় কোরবানী হওয়া মোট পশু প্রায় ৭০ ভাগ গরুর চামড়া হাটিকুমরুল রোড পয়েন্টের আড়ত গুলোয় কেনা বেচা হয়েছে। আর বাকী চামড়া উল্লাপাড়া শ্যামলীপাড়া ও অন্য এলাকায় আড়তে কেনা বেচা হয়েছে বলে জানা যায়। এসব চামড়া মৌসুমী ব্যবসায়ী ফড়িয়ারা গ্রাম ঘুরে কিনে এনে বিক্রি করেছে। এবারে বেশির ভাগই ফড়িয়া মহাজনদের কাছ থেকে চালানের সহায়তা পায়নি। একারণে চালান না থাকায় অনেক ফড়িয়া চামড়া কিনতে মাঠে নামেনি। আবার যারা নেমেছিল বিভিন্ন উপায়ে চালানের টাকা সংগ্রহ এবং চামড়ার দাম মহাজনদের কাছ থেকে কম মিলবে এমন ধারনা নিয়েই মাঠে থেকে যাচাই বাছাই চামড়া কিনেছে। এরপরেও কারো কারো লোকসান হয়েছে বলে জানা যায়। খোজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ফড়িয়া সরাসরি বগুড়া, চান্দাইকোনা, সিরাজগঞ্জ আড়তে চামড়া বেচেছে। হাটিকুমরুলের আড়তগুলোয় কম বেশি সংখ্যক চামড়া কেনা হয়েছে। এখন লবণ দিয়ে তা সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। উল্লাপাড়া সদর ইউনিয়নের নাগরৌহা গ্রামের হাফিজিয়া মাদরাসায় এবারে গ্রামবাসীরা কোরবানী দেওয়া পশুর ৮৪টি গরুর চামড়া দান করে দেয়। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক পরিমাণ ছিলো বড় মাপের চামড়া। ঈদের দিন রাতে অবশেষে নিলাম ডাকের মাধ্যমে ক’জন মৌসুমী ফড়িয়া মিলিতভাবে এ চামড়া কিনে নেয়। প্রতিটি চামড়ার গড়দাম দেওয়া হয় ৩শ ৪০ টাকা। জানা যায়, এ চামড়া স্থানীয় একজন মহাজনের কাছে ফড়িয়ারা বিক্রি করে ব্যবসায় তেমন লাভ করতে পারেনি। উল্লাপাড়ার শ্যামলীপাড়া চামড়া ব্যবসায়ী মনি দাস জানায়, বিভিন্ন পথে মুলধন সংগ্রহ করে প্রায় সাড়ে ৫শ পিচ চামড়া কিনেছেন। তা এখন লবণ মাখিয়ে রাখছেন। আরেক চামড়া ব্যবসায়ী রতন দাস এবারে মুলধন কমের কারণে মাত্র ১শ ২৫ পিচ চামড়া কিনেছেন বলে জানান। মহাজনদের কাছ থেকে বিগত বছরের বকেয়া একটি টাকাও এবারে পায়নি। তিনি আরো জানান, একমাত্র মুলধন কমের কারণে আশা থাকলেও বেশি পরিমাণ চামড়া কিনতে পারেনি। তার গুদামে কেনা চামড়ায় সংরক্ষনে লবণ মাখিয়ে রাখা হচ্ছে। এদের দু’জনেরই এটি হলো পৈত্রিক ব্যবসা।