উল্লাপাড়ায় এক ব্যাক্তির পরিত্যাক্ত ঘরে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম

0
24
উল্লাপাড়ায় এক ব্যাক্তির পরিত্যাক্ত ঘরে চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম

সাহারুল হক সাচ্চু: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ভাটবেড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ঘিরে ও ভবনের ক্লাস রুমগুলোয় এখন বন্যার পানি। এখানে চলছে না বিদ্যালয়টির কোন কার্যক্রম। অথচ এটি বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবন। গ্রামের একজনের পরিত্যাক্ত ঘরে চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের পাঠদান। এখানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি হার একবারেই কম। ঘন্টাখানেক চলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। বিদ্যালয়ের কার্যক্রম গত চারদিন এভাবেই বিদ্যালয়টি চলছে। উল্লাপাড়া উপজেলার দুর্গানগর ইউনিয়নের ভাটবেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠা হয়েছে। বিগত ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয় করণ করা হয়েছে। এ বিদ্যালয়ে একটি মাত্র একতলা পাকা ভবন। মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ১শ ৭৪ জন। শিক্ষক আছেন ৪ জন। গতকাল শনিবার ২০ জুলাই বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে পুরো এলাকা জুড়ে বন্যার পানি। একমাত্র ভবনের ক্লাসরুম গুলোর ভিতরে ২ থেকে আড়াই ফুট বন্যার পানি । এ অবস্থায় গত বুধবার থেকে বিদ্যালয়ের নিজ ভবনে পাঠদানসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাটবেড়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের বাড়ীতে ভাঙ্গা পরিত্যাক্ত একটি ঘরে বুধবার থেকে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সরেজমিনে শনিবার দেখা গেছে এখানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি ছিল ১৮ জন। এদেরকে মেঝেয় বিছানো পাটি বসিয়ে পাঠদান চলছে। প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, এমন অবস্থা শুধু এবারের নয়। এলাকায় স্বাভাবিক বন্যাতেই তার বিদ্যালয়ের ভবনের ক্লাসরুমে পানি উঠে। তখন হয় বিদ্যালয় বন্ধ নয়তো গ্রামের কোন বাড়ীতে চালানো হয় কার্যক্রম। একটি নতুন ভবনের জন্য বিগত ক’বছরে বেশ ক’বার আবেদন জানানো হয়েছে। তার (সিটাইপ-বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র দোতলা ভবন) বাস্তবায়ন হলে এ সমস্যা থাকতো না। এদিকে বর্তমান ভবনটি বেশ ঝুকিপূর্ণ বলে তিনি জানান। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম বিষয়ে জানান, একদিকে পুরো এলাকা জুড়ে বন্যার পানি। এছাড়া বিদ্যালয়টির ক্লাসরুম গুলোয় পানি। এদিকে যেখানে পাঠদান চলছে সেটি একটি পরিত্যাক্ত ঘর। নেই কোন পরিবেশ। বন্যাকালে চলাচলে ঝুকি ও এসব সমস্যা বারবার তাগিদের পরও শিক্ষার্থীরা আসছে না। বিদ্যালয় ভবনের ক্ল্রাসরুমে বন্যার পানি উঠার বিষয়ে তিনি তার দফতর উপজেলা শিক্ষা বিভাগকে কোন কিছুই জানাননি বলে জানান। এ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ ছাইদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে নতুন একটি ভবন হবে এমন কথা তিনি অনেক দিন থেকেই শুনে আসছেন। ক্লাসরুমে পানি উঠা ও অন্য জায়গায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম বিষয়ে তা কিছুই জানা নেই। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এম জি মাহমুদ ইজদানী জানান, সবশেষ তথ্যে গোটা উপজেলায় ৪০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্যা কবলিত হয়েছে। তবে কোন বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়নি। ভাটবেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন সমস্যা বিষয়ে তিনি আজ রোববার দুপুরে জেনেছেন। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে লিখিতভাবে কোন কিছু জানাননি। এদিকে ভাটবেড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একটি ভবনের জন্য তার বিভাগ থেকে যথাযথভাবে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে পাঠানো আছে।