বন্যায় রংপুর বিভাগের ৫শত ৫০টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ, বিলীন হয়েছে ৭টি বিদ্যালয়

0
24
বন্যায় রংপুর বিভাগের ৫ শত ৫০ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ, বিলীন হয়েছে ৭টি বিদ্যালয়

জয়নাল আবেদীন: চলতি বন্যায় রংপুর বিভাগের বিভাগের ছয়টি জেলায় এখন পর্যন্ত ৫ শত ৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখা পড়া বন্ধ রয়েছে। ভাঙ্গনে নদীতে বিলীন হয়েছে সাতটি বিদ্যালয় । ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আরো ১ শ ৬৭টি। এতে করে প্রায় ৩ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভাগ্য অনিশ্চিতার মধ্যে পড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্র জানাগেছে, এবারের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জেলা হচ্ছে গাইবান্ধা। এরমধ্যে জেলায় চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভাঙ্গনের মধ্যে পড়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার একটি ও ফুলছড়ি উপজেলার তিনটি বিদ্যালয় রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী ও রাজীবপুরে তিনটি লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় একটি।বন্যায় গাইবান্ধার ৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বন্যার পানি বিদ্যালয়ে প্রবেশ করায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে ১ শত ৯০টি বিদ্যালয়ে। বন্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪৪টি বিদ্যালয়। ফলে সেখানে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সাদুল্যাপুরে ছয়টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ। সাঘাটায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা একটি এবং পাঠদান বন্ধ রয়েছে ৩৬টিতে। ফুলছড়িতে ২২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর পাঠদান বন্ধ রয়েছে ৮৯টিতে। এছাড়া সদর উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ২১টি এবং পাঠদান বন্ধ আছে ২০টিতে। কুড়িগ্রাম জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ের সংখ্যা সাতটি। পাঠদান বন্ধ রয়েছে ২ শত ৭৫টি স্কুলে। এর মধ্যে নাগেরশ্বরীতে ৩৪টি ফুলবাড়িতে ৮টি। রৌমারীতে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ের সংখ্যা দুটি এবং পাঠদান বন্ধ আছে ৩৮টিতে। এছাড়া সদরে ৩৫টি, উলিপুরে ৫১টি, চিলমারীতে ৫৬টি, ভুরুঙ্গামারীতে ১১টি, রাজারহাটে ছয়টি ও রাজীবপুরে ৩৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। চলমান বন্যায় রংপুর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৩টি। ৯ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কাউনিয়া উপজেলায় একটি, গংগাচড়া উপজেলায় ৭টি এবং পীরগাছা উপজেলায় ১ বিদ্যালয় রয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই তিন উপজেলায় ১৩ টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে ৯ টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ করা হয়েছে। গংগাচড়া উপজেলার পাঠদানে অনুপোযোগী বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে চর নেহালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগডহরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর বাগডহরা বালিকা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব চর বাগডহরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাগ ডহরা চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিলাখাল চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিনবিনা চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ছাড়াও কাউনিয়া উপজেলার চর ঢুষমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে। অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পীরগাছার উপজেলার চর দক্ষিণ গাবুড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জুয়ান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নং জুয়ান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামসিং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাসিম সরকারী প্রাথমিক

বিদ্যালয়, চর ছাওলা কামারেরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় । গঙ্গাচড়া উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান সরকার জানান, তিস্তা নদীবেষ্টিত হওয়ায় গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী, কোলকন্দ ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের আটটি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় গুলোর ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তা জানতে চাইলে রংপুরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় সমূহের তালিকা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছি তিনি সিদ্ধন্ত নিবেন। এছাড়াও জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কাছেও অনুলিপি দেয়া হয়েছে। বন্যায় লালমনিরহাটে ক্ষতিগ্রস্থ বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৪১টি। পানি প্রবেশ করায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৫৭টি বিদ্যালয়। বন্যায় জেলার আদিতমারীতে ১২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। কালীগঞ্জে ৭টি, সদর উপজেলায় ২০টি, হাতীবান্ধায় ৪০টি বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। নীলফামারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১২টি বিদ্যালয়, এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আছে পাঁচটি ও ডিমলাায় সাতটি। এছাড়া বন্যার পানি প্রবেশ করায় ডিমলা উপজেলার ১৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। পঞ্চগড়ে বন্যার পানি প্রঙবেশ করায় সদর ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ আছে। প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগের উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার জানান, বন্যার কারণে বিভাগে ৫ শত ৫০টি শিক্ষা প্রতিষ্টানে পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়েছে। পানি নেমে গেলে বিদ্যালয়গুলোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হবে।