গুজব নয় এবার সত্যিই শিশুর কাটা মাথা মিলেছে নেত্রকোনায়, গণ পিটুনিতে নিহত ১

0
128
গুজব নয় এবার সত্যিই শিশুর কাটা মাথা মিলেছে নেত্রকোনায়, গণ পিটুনিতে নিহত ১

হুমায়ুন কবির: গুজব নয় এবার সত্যিই শিশুর কাটা মাথা পাওয়া গেছে নেত্রকোনায়। ব্যাগে করে শিশুর কাটা মাথা নিয়ে ঘুরার সময় রবিন (৩০) নামের এক যুবককে সন্দেহজনকভাবে ধাওয়া করে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। নিহত রিক্সাচালক রবিন কাটলি এলাকার এখলাছ উদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পৌর শহরের নিউটাউন এলাকার অনন্তপুকুর পাড়ে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে মডেল থানার পুলিশ লাশ এবং শিশুর মাথা উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় সুইপার কলনির সামনে পুলিশের ওপর ইট পাটকেল মারতে থাকে।

পরে পুলিশ দৌড়ে গিয়ে একটি ব্যাংকের মাইক্রোবাসে উঠে থানায় আশ্রয় নেয়। এদিকে ঘটনার পরপরই পুরো। শহরের মানুষ থানার ফটক ঘেরাও করে ফেলে।

পরে লাশ নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠালে সেখানেও শত শত মানুষ ভীড় জমান।

এদিকে কাটা মাথা পাওয়া শিশুটি একই এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকা রিক্সাচালক রহিছ উদ্দিনের সাত বছরের ছেলে সজিব।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে আনুমানিক একটার দিকে শহরের বারহাট্টা রোড এলাকার হরিজন পল্লীর পাশে দুজনকে ব্যাগ হাতে ঘুরঘুর করতে দেখেন অনেকে।
প্রথমে পরে চোর সন্দেহে ব্যাগ হাতে তাদেরকে ধাওয়া করে জনতা। পরে নিউটাউন অনন্তপুকুরপাড় এলাকায় ঢুকলে আশপাশের মানুষ এসে আটকে ফেলে একজনকে।

এসময় তার হাতে থাকা ব্যাগটিতে তল্লাশি করে শিশুর কাটা মাথা পাওয়া যায়।

পরে উত্তেজিত জনতা যুবক রবিনকে ঘটনাস্থলেই পিটিয়ে হত্যা করে ফেলে।

এই ঘটনা ফেইসবুকে ছড়িয়ে গেলে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ এবং শিশুর মাথা উদ্ধার করে নেত্রকোনা মর্গে পাঠানোর সময় পুরো শহরের রাস্তা ব্লক করে ফেলে উৎসুক জনতা।

পরে হরিজন পল্লীর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পিছনের কয়েক পুলিশের ওপর আস্ত ইট ছুড়তে থাকে হরিজন পল্লীর কয়েকজন।

পরে তারা একটি ব্যাংকের মাইক্রোবাসে উঠে থানায় যায়। এদিকে শহরের মানুষ ঘটনাস্থল সহ হাসপাতাল এবং থানায় ভীড় জমায়।
বিকালে শিশুর শরীরের বাকী অংশটিও পুলিশ একই এলাকার একটি নির্মাণাধীন তিন তলা ভবন থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এদিকে শিশুটির বাবা রহিছ উদ্দিন ও মা জানান, তারা গত এক মাস হয় আমতলা থেকে কাটলি হীরাদের বাসায় ভাড়া থাকেন। সকালে খেয়ে শিশুটি দোকানে যায় জুস আনতে। সেটিও ঘরে বসে খাওয়ার পর থেকে বাড়ির বাইরে যায়। এরপর তাকে আর পাওয়া যায়নি। হয়তো বাহিরে খেলা করছে ভেবে আর খোজাঁখুজি করেনি মা। পরে নিউটাউন এলাকায় ব্যাগসহ যুবক ধরা পড়লে এবং ফেইসবুকে মাথা সহ ছবি ছড়িয়ে পড়লে খবর পান তাদের সন্তান।
নেত্রকোনা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি শাহ নুর এ আলম নিহত যুবকের পরিচয়টি নিশ্চিত করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম জানান, এটি অন্য কোন অপরাধ কিনা ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সাথে এর সাথে আর কে ছিলো তাকেও খোঁজা হচ্ছে।
এদিকে গত কয়েকদিন পূর্বে সিংহের বাংলা ইউনিয়নে এক বছরের বাচ্চাসহ এক নারীকে আটক করে জনতা পুলিশে দেয়। শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করে। কিন্তু নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মোঃ তাজুল ইসলাম বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়ে বলেন মহিলা পাগলের মতো। গত বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় নারী কিশোর সহ মানুষ বাসা ভাড়া খোঁজাখুজি করছে। এসব নিয়েও মানুষের মাঝে এক ধরেনর অতংকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবকরা এখন শংকিত।