তাহিপুরে বন্যার পানি কমলেও,কমছে না দুর্ভোগ

0
19
তাহিপুরে বন্যার পানি কমলেও,কমছে না দুর্ভোগ

আহম্মদ কবির: বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ মুক্ত নয় ,বন্যায় কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।যে পরিমান ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে তা তুলনামূলক ভাবে অনেকটাই কম। তা দিয়ে কিছু কিছু মানুষের কোন মতে দু-এক দিনের খাদ্যের যোগান দিলেও।গৃহহীন মানুষের বসতবাড়ি মেরামতে নেই কোন আর্থিক সহযোগিতা।এছাড়াও বর্তমানে বন্যা পরবর্তী রোগবালাই, বিশুদ্ধ পানি ও গৃহহারা মানুষজনের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় জর্জরিত রয়েছেন গোখাদ্য নিয়ে।তাহিরপুর হাওর বেস্টিত নিম্নাঞ্চলের, বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। উপজেলার নিম্নাঞ্চলে ১১দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল এবং হাওরের উত্তাল ঢেউয়ে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন সহ হাওর বস্টিত নিম্নাঞ্চলে,যাদের বসতভিটা ভেঙে নিয়ে গেছে,দু-তিন দিন যাবৎ এসব বসতভিটা হতে পানি নামতে শুরু করায়,এসব অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন ফেলেরাখা নিজ নিজ বসতভিটে আসার ইচ্ছাপোষণ করলেও,পারছেনা নানামুখি সমস্যার জন্য,বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় ওদের মধ্যে কারো বসতভিটা ভাঙ্গন,কারো রান্নাঘর ভাঙ্গন সহ বিভিন্ন সমস্যার রয়েছে তাদের । তাই এখন বন্যা দুর্গত এলাকায় বসত বাড়ি মেরামত এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও ভেঙ্গে যাওয়া পারিবারিক শৌচাগার নির্মানে আর্থিক সহায়তা করলে, হয়তো এই দারিদ্র সীমার মধ্যে বসবাস করা মানুষদের কষ্ট কিছুটা মুছবে।এছাড়াও উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজনের তথ্য ও সরেজমিনে জানাযায়, বন্যা চলাকালীন সময়ে বন্যা কবলিত এলাকা হতে গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরাতে পারলেও, সরাতে পারেননি গবাদিপশুর খাবার। তাই এ উপজেলার হাওর বেস্টিত নিম্নাঞ্চলের গবাদিপশুর একমাত্র খাবার খড় বন্যার পানিতে পচন ধরেছে।তাই এই হাওর বেস্টিত নিম্নাঞ্চলের বন্যা কবলিত এলাকায়, সরকার যত তারাতাড়ি সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এমনটাই আশা করেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলো।

বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় গত ১১দিন ধরে বন্যা চলাকালে এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন হতে তাহিরপুর উপজেলায় ৬৪ টন চাল, ১০১৫ টি ত্রাণের প্যাকেট ও ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এসেছে। ৬৪ টন চাল উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। ১০১৫টি ত্রাণের প্যাকেট ৭ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানদের মাঝে বিভাজন করে বণ্টন করা হয়েছে, ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এ পর্যন্ত বিতরণ করা হয়নি।স্থানীয়দের তথ্যমতে জানাযায় তাহিরপুর উপজেলার জেলা সদরের সাথে সড়কপথে যোগাযোগের জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বন্যায় সড়কে একটি অংশ ১০ ফুট গভীরে গর্ত হয়ে ২০ দিন যাবৎ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।এছাড়াও বাগলি হতে বারেকের টিলা পর্যন্ত ১০টি স্থানের সড়ক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। তাহিরপুর বাদাঘাট সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার রাস্তাঘাট অবকাঠামো বাবদ আনুমানিক ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।এ উপজেলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার পরিবার পানিবন্দি।বিভিন্ন তথ্যসুত্রে জানাযায় উপজেলার উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে মধ্যে কমবেশি ত্রান সামগ্রী বিতরণ লক্ষনীয় হলেও টাংগুয়ার হাওর সংলগ্ন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রামসিংহপুর লামাগাও সহ বেশ কয়েকটি গ্রামে ত্রাণ বিতরণ করা দুরের কথা এ পর্যন্ত কেউ তাদের দেখতেই যাননি।

উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের রামসিংহপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, বন্যা হইছে ১১দিন চলছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ত্রাণ বিতরণ হচ্ছে আমরা শুধু খবর পাই। আমাদের এখানে কেউ ত্রাণ বিতরণ দুরের কথা এ পর্যন্ত কেউ দেখতেই আসেনি।
তাহিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় গণমাধ্যম কে জানান , এ পর্যন্ত সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন হতে তাহিরপুরে ৬৪ টন চাল, ১০১৫টি ত্রাণের প্যাকেট ও ৫৫ বান্ডিল ঢেউটিন এসেছে। ত্রাণ সামগ্রী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছে। ঢেউটিন এখনো বিতরণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ ইমতিয়াজ এর সরকারি মোবাই ফোন বন্ধ থাকায় আলাপ করা সম্ভব হয়নি।
তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল এর মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করলেও উনি ফোন রিচিব না করায় আলাপ করা সম্ভব হয়নি।