সাঁথিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পোনামাছ উৎপাদন খামার বন্ধ হওয়ার পথে

0
31
সাঁথিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পোনামাছ উৎপাদন খামার বন্ধ হওয়ার পথে

আব্দুদ দাইন: পাবনার সাঁথিয়ায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একমাত্র মৎস্য উৎপাদন খামারটি দীর্ঘদিন অযতœ ও অবহেলায় পড়ে থাকায় উপজেলায় মৎস্য চাষের উৎপাদন চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে। ফলে উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে খামারটির দরজা, জানালা দিনে দিনে উধাও হয়ে যাচ্ছে। মেরামতের অভাবে দুটি বিল্ডিং ধ্বংসের পথে। খামারটি এখন নেশাখোরদের অভায়াশ্রমে পরিনত হয়েছে। সন্ধ্যার পরে এখানে শুরু হয় অসামাজিক কার্যকালাপ, বেড়ে যায় ছিনতাইকারীদের আনা গোনা। ১৯৭৩ সালে পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প চালু হবার পর থেকে পদ্মা, যমুনা, হুরা সাগর ও বড়াল নদী থেকে প্রাকৃতিক ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা মাছ উপযুক্ত সময়ে সাঁথিয়া ও বেড়ার হাওড়, বাওড় ও বিলে ঢুকতে পারে না। কারণ ওই সময় ভেতরে পানি প্রবেশের উৎসমুখ ইছামতি নদীর মুখে বেড়া পাম্প হাউজ ও স্লুইসগেট এবং কাগেশ্বরী নদীর উৎস মুখ কৈটোলা স্লুইসগেট বন্ধ থাকে। ফলে দিনে দিনে বিল গুলো মৎস্য শূন্য হয়ে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তোরনের জন্য ১৯৯০সালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ইছামতি সেচ খালের পাড়ে সাঁথিয়া উপজেলা সদরের নন্দনপুর নামক স্থানে প্রায় ১কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পোনামাছ উৎপাদন খামার স্থাপন করা হয়। শুরুতে ২/১ বছর পোনামাছ উৎপাদন করে উপজেলার বিভিন্ন হাওড়, বাওড়, খাল, বিল ও পুকুরে পোনামাছ সরবরাহ করা হলেও পরক্ষনেই তা অর্থাভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি দেখা-শোনা করার প্রকৃত মালিক নেই। দায় সারা ভাবে সাঁথিয়া উপজেলা মৎস্য বিভাগ এটি দেখা-শোনা করার জন্য একটি মৎস্য সমিতির নামে নামমাত্র টাকায় লিজ দিয়েছে। অথচ পরিকল্পিতভাবে খামারটি চালু করা হলে উপজেলার সরকারী বে-সরকারী ৭ হাজার ৩০টি পুকুর, ৭২টি বরোপিট, ৩১টি বিল, ৩টি নদী, ২৯টি প্লাবন ভূমিতে প্রায় ১৫ হাজার আয়তনের জলাভূমিতে মাছের আবাদ করে সাঁথিয়া উপজেলার প্রায় ৪ হাজার মেঃ টন মাছের চাহিদা পুরন করে অতিরিক্ত ৬ হাজার মেঃ টন মাছ উৎপাদন সম্ভব বলে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়। বৃহস্পতিবার সাঁথিয়ায় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ্যাড. শামসুল হক টুকু এমপির

উপস্থিতিতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলার প্রায় ৭ হাজার মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষীরা সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোরদাবী জানিয়েছেন।