দেড় বছরেও কেশবপুরের ব্যবসায়ী মামুন হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি

0
24
দেড় বছরেও কেশবপুরের ব্যবসায়ী মামুন হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি

জি এম মিন্টু: বিগত দেড় বছরেও কেশবপুরের বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব হোসেন মোড়লের ছেলে ব্যবসায়ী মামুন আর রশিদের খুনিদের চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। ফলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইতিমধ্যে থানা ও ডিবি পুলিশ পৃথক ভাবে মামলার তদন্ত করেছেন। বর্তমানে যশোরের সিআইডি মামলার তদন্ত করছেন। কিন্তু আজো পর্যন্ত হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি তারা। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহত মামুনের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬ ব্যক্তিকে আটক করা হলেও তারা সবাই জামিনে বেরিয়ে মামলা তুলে নিতে বাদির পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। ফলে আতংকে দিন কাটছে মামলার বাদী ও তার পরিবারের।
জানা গেছে, উপজেলার বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নের হিজলডাঙ্গা গ্রামের সোহরাব হোসেন মোড়লের বড় ছেলে মামুন আর রশিদ ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রয়ারী সকালে তার নতুন পালসার মোটর সাইকেলে কেশবপুর আসেন। রাতে মঙ্গলকোট বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পতিমধ্যে দূর্বৃত্তরা তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে মোটর সাইকেলটি নিয়ে যায়। দূর্বৃত্তরা তার লাশ এলাকা থেকে ৪-৫ কিলোমিটার দূরে পৌর এলাকার সরফাবাদ মাঠের একটি কচুক্ষেতে লুকিয়ে রাখে। পরদিন সকালে ক্ষেতের কৃষকরা তার লাশ দেখতে পেয়ে থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনার নিহতের পিতা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেশবপুর থানায় একটি মামলা করেন। যার নং-২০,তাং-২৮-০২-১৮। মামলার ঘটনায় কেশবপুর থানা পুলিশ নিহত মামুন আর রশিদের ব্যসায়িক পার্টনার জামাল উদ্দীন, নজরুল ওরফে ঘোড়া নজরুল ও ইদ্রিস আলীকে আটক করেও হত্যার কোন ক্লু উদঘাটন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে যশোরের ডিবি পুলিশ প্রায় ৫ মাস তদন্ত করে তৌহিদুল ইসলাম ও আলী আহম্মদকে আটক করেও কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি। এরপর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য যশোর সিআইডি পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি পুলিশ প্রায় ১ বছর তদন্ত করে শরিফুল ইসলাম পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে অটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
এ দিকে নিহত মামুন আর রশিদের মা সবুরা বেগম এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, এ হত্যাকান্ডের ১৫ দিন পূর্বে হিজলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মঙ্গলকোট গ্রামের মকছেদ সর্দারের ছেলে আলাউদ্দিন নিহত মামুন আর রশিদের বাড়িতে যেয়ে তার মা সবুরা বেগমের নিকট প্রায় ৬ বছর পূর্বে ডিভোর্স দেয়া মানুনের স্ত্রী তুলির মোবাইল নাম্বার চাইতে যান। মোবাইল নাম্বারের প্রয়োজন জানতে চাইলে এসময় তিনি বলেন, একটি লোক মোবাইল নাম্বার চেয়েছে, সে তোমাদের কোন ক্ষতি করবে না। এ ঘটনায় ১৫ দিন পরই ব্যবসায়ী মামুন আর রশিদ খুন হয়। এ ঘটনায় সিআইডি পুলিশ চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে শিক্ষক আলাউদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য তাদের দপ্তরে নিয়ে যান। সিআইডি দপ্তরে এ কথা প্রথমে অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে শিক্ষক আলউদ্দীন এ কথা শিকার করে লিখিত দিয়ে আসেন। সিআইডি দপ্তরের লিখিত বক্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলকোট গ্রামের রাজ্জাক মোল্লার ছেলে শাহিনের কথামত সে মামুনের সাবেক স্ত্রীর মোবাইল নাম্বার আনতে যান।
নিহত মামুন আর রশিদের মায়ের দাবি, ওই শিক্ষক আলাউদ্দীনকে আটক করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। আলাউদ্দীনের চাচাতো ভাই জামাল উদ্দীনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পার্টনারশীপে একটি ট্রাক, তেলের পাম্প স্থাপন ও চাতালের ব্যবসা করতো মামুন আর রশিদ। তেলের পাম্প স্থাপন নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। তারই সুত্র ধরে মামুন খুন হয়। খুনের ঘটনা মামুনের সাবেক স্ত্রী তুলির উপর দেয়ার জন্য আলাউদ্দিন তুলির মোবাইল নাম্বার নিতে আমার বাড়িতে আসে। সিআইডি পুলিশের নিকট এ কথা লিখিত দেয়ার পর থেকে শিক্ষক আলাউদ্দীন হিজলডাঙ্গা স্কুলে আসেন না। তিনি কৌশলে ডেপুটেশনে মঙ্গলকোট পল্লীমঙ্গল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলে গেছে। তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকান্ডের ঘটনার আটক ব্যক্তিরা জামিনে বেরিয়ে এসে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। পরিবার নিয়ে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। ফলে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে কেশবপুর থানায় জিডি করা হয়েছে। এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে জামাল এবং আলাউদ্দীনের গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ ব্যাপারে শিক্ষক আলাউদ্দিন গ্রামের কাগজকে বলেন, মামুন হত্যাকান্ডের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। মানুনের সাবেক স্ত্রী তুলির মোবাইল নাম্বার আমি কেন চাইতে যাবো। যশোর সিআইডি অফিসে মানুষিক নির্যাতনের কারণে আমি সেখানে কি লিখিত দিয়েছি তা নিজেও বলতে পারি না।
অপর দিকে মামুনের ছোট ভাই মোনায়েম হোসেন বাদি হয়ে জামাল ও আলাউদ্দীনসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে যশোর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু অদ্যবধি ব্যবসায়ী মামুন আর রশিদ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ফলে মামলার ভবিষ্যত নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহত মামুনের পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা।
এ ব্যাপারে যশোর সিআইডি পুলিশের উপ পরিদর্শক আব্দুল লতিফ গ্রামের কাগজকে জানান, মামুন হত্যার ঘটনা অজ্ঞাত মাডার মামলা, যে কারণে এখনো তদন্ত চলছে। তবে দ্রুত মামুন হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।