সিংগাইরে জনবসতি এলাকায় সিসা তৈরীর কারখানা স্থাপন, বিষাক্ত গ্যাসে গবাদিপশুর মৃত্যু

0
40
সিংগাইরে জনবসতি এলাকায় সিসা তৈরীর কারখানা স্থাপন, বিষাক্ত গ্যাসে গবাদিপশুর মৃত্যু

মিজানুর রহমান: মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জনবসতি এলাকায় কারখানা স্থাপন করে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা তৈরি করছেন উপজেলার ফোর্ডনগর গ্রামের জবেদ আলী শিকদারের ছেলে জানু শিকদার, মান্নান শিকদার, সাদেক খানের ছেলে সালাম খান ও আফাজদ্দিন ওরফে তারেক,নামের প্রভাবশালীরা। এ কারখানার নামও দিয়েছেন থ্রি স্টার ব্যাটারী কারখানা। জনবসতি কৃষি জমি এলাকায় কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে কিভাবে সিসা কারখানা গড়ে উঠলো এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব পুরাতন ব্যাটারী পুড়ানোর মারাতœক ঝাঁজালো ধোঁয়ায় জনস্বাস্থ্য,প্রানীকূলসহ মারাত্মক হুমকির পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয় হলেও প্রশাসনের নেই কোন কার্যকারি পদক্ষেপ। বিধি অনুযায়ী এসব কারখানা স্থাপন করতে হলে জনশূন্য অনুর্বর অঞ্চল পরিবেশের ছাড়পত্র জেলা প্রশাসকের অনুমতি পত্র নিয়ে কারখানা স্থাপন করতে হয়। সিসা কারখানার মালিকরা শুধু মাত্র ইউপি চেয়ারম্যানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে অনুমোদনহীন কারখানা চালিয়ে ফুলে ফেঁফে উঠেছেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর গ্রামে থ্রি স্টার সিসার কারখানার আশেপাশে জনবসতি এলাকা,ফসলি ক্ষেত,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ব্যাটারি থেকে সিসা তৈরীর সময়, সিসার বাস্প, এসিডমিশ্রিত ধোঁয়ায়,শিশুসহ বয়োবৃদ্ধা ভোগছে শ্বাসকষ্টসহ নানা জাটল কঠিন রোগে।এ ছাড়া সিসার কালো ধোঁয়ায় মৃথেন গ্যাসে গাছপালা তৃর্নসবুজ ঘাস বিষাক্ত হচ্ছে। থ্রি স্টার কারখানার আশেপাশের ঘাস এতই বিষাক্ত হয়েছে যে গবাদী পশু তা খেয়ে মারাত্মক রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। জানা গেছে,গত এক সপ্তাহের

ব্যবধানে ফারুক খানের ১টি,জগা বেগম ২টি,মেহেরজান ৫টি,মহিমা খানমের ১টি,বাবুল খানের ১টি,রহিম খানের ১টি,মালো খাতুন ৬টি গবাদিপশু মারাতœক গ্যাসমিশ্রিত ঘাস খেয়ে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এ ছাড়া একই এলাকার আরো ৩৭টি গবাদিপশু মারাতœক গ্যাসে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার র্ফোডনগর গ্রামের মালো খাতুন বলেন,আমি গরিব মানুষ অনেক কষ্ট করে ৬ টি ছাগল পালতাম সিসার গ্যাসে আমার ছাগলগুলি মারা গেছে আমি এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। একই গ্রামের মেহেরজান বলেন,আমার ৫টি ছাগল সিসার গ্যাসে মারা গেছে,ফুলকিতে আমার ঘরের চালা ছিদ্র হয়ে গেছে আমার বিচার কে দিবে। স্থানীয়রা আরো জানান,গভীর রাত হলেই শুরু হয় সিসা গলানোর কাজ। এসব সিসার কালো ধোঁয়ায় রাতে ঘুমানো কষ্ট হয় দিনে চোঁখ জ্বলে। গবাদিপশু তো মারা যাচ্ছেই। এ ছাড়া এসিড মিশ্রিত ধোঁয়ায় ও কাঠ পুড়ানো ফুলকিতে ঘরের চালা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র হয়ে যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে গাছপালায় ফুল ও ফল আসছে না। এ দিকে কারখানায় ১০-১৫ জন শ্রমিক জীবনের ঝুকি নিয়ে এ কারখানায় কাজ করে যাচ্ছে। এলাকাবাসী সিসা কারখানাটি বন্ধের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। সিসা কারখানার মালিক আফাজুদ্দিন ওরফে তারেক বলেন, আমার কারখানার এলাকার কারও কোন ক্ষতি হয় নাই, শুনেছি কিছু ছাগল মারা গেছে। কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন ডিসি , ইউএনওর অনুমতি আছে শুধু পরিবেশের ছাড়পত্র নেই। উপজেলা স্বাস্থ্যেকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো:সামিউর রহমান বলেন,সিসার বিষাক্ত গ্যাসের কারনে মানুষের ফুসফুস,কাশি,ঠান্ডা,জ্বর মুখ জ্বলাসহ মারাতœক মরনব্যাধি রোগ হতে পারে।

এই ব্যাপারে ধল্লা ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভুইয়া বলেন,আমি পুরাতন ব্যাটারী ক্রয় বিক্রয়ের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছি সিসা গলানোর লাইসেন্স দেয়নি এ রকম হয়ে থাকলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহেলা রহমত উল্লাহ্ধসঢ়; বলেন,বিষয়টি আমার জানা নেই আপনার কাছ থেকে শুনলাম,পরিবেশের ছাড় পত্র,ডিসি স্যারের অনুমতিপত্র ছাড়া এমনকি লোকালয়ে সিসা গলানোর কারখানা করতে পারে না। আমি কারখানায় গিয়ে দেখে আইনুনাগ ব্যবস্থা নিব।