সিরাজগঞ্জে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ২১ হাজার ৫শত ৬২ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

0
40
সিরাজগঞ্জে ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি, ২১ হাজার ৫শত ৬২ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

কাগজ প্রতিনিধি: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নদীর পনি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে নদী বেষ্টিত কাজীপুর, সদর, বেলকুচি, এনায়েতপুর, চৌহালী, শাহজাদপুর উপজেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি এসব উপজেলায় ভাঙ্গনও রয়েছে। ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বসত বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বন্যার পানিতে ডুবে কাজীপুর উপজেলায় সুমন নামে এক শিশু ও কবির হোসেন নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫শত ৬২ পরিবার।

আজ বুধবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মতে, যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১৪ দশমিক ০৩ সেন্টিমিটার মিটার রেকর্ড করা হয়েছে, যা বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ হাসান সিদ্দিক জানান, যমুনা নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে শুরু হয় ভাঙ্গন। তবে এতে আতংকিত হবার কিছু নেই। উপজেলার বাঐখোলায় বাঁধে ধস নামলে তা নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সুত্রে জানা যায়, গত তিনদিন ধরে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় নদী তীরবর্তী অঞ্চলগুলো প্লাবিত হচ্ছে। ফলে জেলার কাজিপুর, সদর, বেলকুচি, চৌহালী ও শাহজাদপুর উপজেলার নদী তীরবর্তী অন্তত ৩৫টি ইউনিয়নে ৯৩৬ গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৬৮ হাজার ১০ জন লোক, ১ হাজার ৮৬টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ্য এবং ২০ হাজার ৪শত ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, যমুনা নদীর পানি আগামী ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, এপর্যন্ত পাওয়া তথ্যে বন্যায় যমুনার চরাঞ্চলের ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব মানুষের জন্য ১৭২টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ৭শত মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিতরন কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন।