লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহন এলাকার সাড়ে ৩শ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে

0
6
লক্ষ্মীপুরের চররমনী মোহন এলাকার সাড়ে ৩শ মিটার বাঁধ নদী গর্ভে

মো: রবিউল ইসলাম: লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি বাড়ার সাথে প্রবল ঢেউ ও স্রোতের কারণে সদর উপজেলার চররমনী মোহন এলাকায় সাড়ে তিনশ মিটার বেড়ি বাঁধ নদীতে ভেঙ্গে নদীতে তলীয়ে গেছে। এতে বাঁধের পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতংক। পানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাঁেধর এ অংশ নির্মাণের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা জরুরী ভিত্তিতে বরাদ্ধ দেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান গত একমাস আগে কাজ শুরু করলেও কয়েকদিন ধরে প্রবল জোয়ার ও বৃষ্টির কারনে কাজ বন্ধ রেখেছেন। চররমনী মোহন এলাকার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ রাহেলা বেগম জানান, এ পর্যন্ত চার বার তাদের ঘরবাড়ী নদীতে ভেঙ্গেছে। এখন তিনি বেড়ির পাড়ে আশ্রয় নিলেও তার পাশ দিয়েই আবার ভাঙছে নদী। একই এলাকার ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ফাহিমা জানান, গত ১৫ দিন আগে মেঘনায় তার ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বর্তমানে সে পাশের এক বাড়ীতে ঘরের চাল নিয়ে আশ্রয় নেয়। পরিবারের ছয় ছেলে মেয়ে নিয়ে এ বর্ষার দিনে বড় কষ্টেই তার দিন কাটছে। সরেজমিনে গিয়ে এভাবেই নদী ভাঙ্গা মানুষের কষ্টের কথা জানা যায়। রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় মেঘনার তীব্র জোয়ার এসে আচড়ে খাচ্ছে তীরে। এতে ভেঙ্গে যাচ্ছে বাড়ী ঘরসহ ফসলি জমি। মানুস হারাচ্ছে তার ভিটে বাড়ী। এভাবে ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে এ বর্ষায় বিলিন হয়ে যাবে পূর্ব চররমনী মোহন গ্রাম। পানি উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, মজুচৌধুরীর থেকে মতিরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার তীর রক্ষা বাঁধ ছিল। এর মধ্যে বর্ষার শুরতে সদর উপজেলার চররহমনী মোহন এলাকায় সাড়ে তিনশ মিটার বাঁধ নদীতে ভেঙ্গে গেছে। ফলে জোয়ারের পানিতে ওই এলাকা রাস্তাঘাট ও ফসলি জমিসহ বাড়ীর আঙ্গিনা তলিয়ে যায়। জোয়ার ও অতি বৃষ্টির কারণে বর্তমানে মেঘনার ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষদের রক্ষার জন্য জরুরী ভিত্তিতে বাধঁ নির্মাণের জন্য ৬৪ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ছামিয়া ও রাজিয়া আহাম্মেদ নামে দুইটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। বর্তমানে নদীতে জোয়ার ও বৃষ্টির কারনে তারা কাজ করতে পারছেনা। তবে আগামী একমাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সূত্রে জানায়, গত বছরে ওই চররমনী মোহন এলাকায় তীর রক্ষায় ১৭৫ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য ৩৮ লক্ষ বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ‘‘স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন নি¤œমানের সামগ্রী দিয়ে ঠিকাদার কাজটি করেন। যার ফলে ওই বাঁধটি কাজ করার পরই নদীতে তলীয়ে যায়। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এবার কাজ দেওয়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।’’ এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ অস্বীকার করে ছামিয়া এন্টার প্রাইভেজ এর সত্তাধিকারী মো. ইমতিয়াজ জানান, গত বছরে ৩৮ লাখ টাকার কাজ করেছি সে বিল এখনো পাইনি। এবছর কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ৬৪ লক্ষ টাকার কাজ দু’টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু করেছি। জোয়ার ও বৃষ্টির কারনে লোকজন বসিয়ে রেখেও কাজ করতে পারছিনা বলে তার দাবী। পূর্ব চরমোহনী মোহন এলাকার স্থানীয় ইউপি মেম্বার খোরশেদ আলম জানান, বেড়ি বাঁধ ভাঙ্গার কারনে নদীতে জোয়ার আসলেই এলাকা তলিয়ে যায়। এতে করে মানুষের চলাচলে যেমন কষ্ট হয় তেমনি ফসলাদি ও হাঁস, মুরগী গরু ছাগলের খাদ্য সংঙ্কটসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মুছা জানান, চলতি বছরে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরমোহনী মোহন এলাকার তীর রক্ষা বাঁেধর সাড়ে তিনশ মিটার বাঁধ মেঘনায় ভেঙ্গে যায়। এ বাধ নির্মাণের জন্য জরুরী ভিত্তিতে দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। দু’টি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করলেও প্রতিকূল পরিবেশের কারনে কাজ করতে পারছে না।