২০ টাকা বেতনে অন্যের জমিতে কাজ করে এখন কলাপাড়ায় সফল কৃষক সুলতান গাজী

0
69
২০ টাকা বেতনে অন্যের জমিতে কাজ করে এখন কলাপাড়ায় সফল কৃষক সুলতান গাজী

এস কে রঞ্জন: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের বাবা আব্দুল আজিজ গাজীর হাত ধরে পয়ত্রিশ বছর আগে কৃষিকাজ শুরু করেন সুলতান গাজী। পিতার আর্থিক অস্বচলতার কারনে ১৯৮৮ সালে দৈনিক ২০ টাকা বেতনে কাজ করেছেন অন্যের কৃষি জমিতে। তিনি মাত্র তিন মাস অন্যের জমিতে কাজ করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে এক বিঘা জমি একসনা হিসাবে নিয়ে তিনি বেগুন চাষ করেন। ওই বছরই বেগুন চাষ করে পায় সফলতা। প্রতি সপ্তাহে ৮/১০ মন বেগুন বিক্রি করতেন তিনি। তার এ আয়ের টাকা দিয়ে কিছু জমি ক্রয় করে বসত ভিটে ও কৃষি জমি করেন। তিনি নিজে প্রাথমিকের গন্ডি না পেরুলেও চার ছেলেকে করেছেন সুশিক্ষিত। বড় ছেলে বিএপাশ করেছে, মেঝ ছেলে মাস্টার্স পড়ছে, সেজ ছেলে অনার্স ও ছোট ছেলে অষ্টম শ্রেনীতে লেখাপড়া করার পাশাপাশি বাবাকে কৃষিকাজে সহযোগীতা করছে। যেদিন থেকে সুলতান অন্যের বাড়িতে কৃষিকাজ করেছেন, সেই দিন থেকে বুঝতে পারছেন কৃষকের কত কষ্ট, সেই থেকে কৃষকের সমস্যা সমাধানের জন্য তাকে ডাকলে তিনি ছুটে যেতেন। কুমিরমারা গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন বলেন, আমি কৃষিকাজ শুরু করা থেকে সুলতান গাজীর কাছ থেকে সবসময় সহযোগীতা পেয়েছি। যখনই তাকে ডেকেছি সরাসরি তিনি আমার ক্ষেতে এসে পরামর্শ দিয়েছেন। নাওভাঙ্গা গ্রামের কৃষক সফিকুল বাশার বলেন, তার কাছ থেকে আমি কৃষি কাজ করতে উদ্ধুদ্ধ হয়েছি। আমিরাবাদ গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, সুলতান গাজীর পরামর্শে কৃষিকাজ করে তিনি লাভবান হয়েছেন। ১০ বছর ধরে তার পরামর্শ নিয়ে তিনি কৃষিকাজ করছেন। সুলতান গাজী জানান, কৃষিকাজে সবসময় আমি কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করি, তারাও আমার দেখা দেখি কৃষি কাজ করে সফল হয়েছে। যেখানেই কৃষকের সমস্যা হয় আমি ও জাকির হোসেন ছুটে যাই কৃষকদের কাছে।