শ্রীপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: ১৬ দিন পর মামলা, আটক ২

0
70
শ্রীপুরে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: ১৬ দিন পর মামলা, আটক ২

কাগজ প্রতিনিধি: গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে সারা দিন বসিয়ে রেখে থানা থেকে বের করে দেয়ার ঘটনার ১৬ দিন পর পুলিশ মামলা নিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত তিনজনের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যজনকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

২৮ জুন রাতে শ্রীপুর উপজেলার কোদলা গ্রামে দুই সন্তানের জননী গৃহবধূ গণধর্ষণের শিকার হন।

এ ঘটনার পরদিন সকালে তিনি অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে ওসি তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে পরে বের করে দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম জানান, গৃহবধূর গণধর্ষণের ঘটনার খবর দুই সপ্তাহ পর শুক্রবার খবর প্রকাশিত হয়। এরপর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। রাতে গৃহবধূ মামলা করলে সেটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নেয়া হয়। এরপর তিন আসামির মধ্যে কোদলা গ্রামের মনজু শেখের ছেলে মাজেদুল (৩৫) এবং মোহাম্মদ আলি ভাদুর ছেলে দিপুলকে (২২) রাতেই গ্রেফতার করা হয়। অপর আসামি একই গ্রামের জনাব আলির ছেলে আশরাফুলকে (২৫) গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর ধর্ষণকারীরা গৃহবধূর কানের দুল ও আলমিরা ভেঙে ব্ল্যাংক চেকের দুটি পাতায় স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এ ঘটনার পরদিন সকালে শ্রীপুর থানায় গৃহবধূ অভিযোগ নিয়ে গেলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তাকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রেখে থানা থেকে বের করে দেন। এমনকি অভিযুক্তদের পরিবর্তে ওই গৃহবধূর বিরুদ্ধে মামলা করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়।

পাশাপাশি ঘটনাটি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বর আনোয়ার হোসেন আনাসহ বেশ কয়েকজনকে ওসি দায়িত্ব দেন। কিন্তু অভিযুক্ত আশরাফুল আত্মীয় হওয়ায় আনা মেম্বরসহ গোষ্ঠীটি ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। শুক্রবার ‘সারা দিন বসিয়ে রেখে ধর্ষিতাকে থানা থেকে বের করে দিল ওসি’ শিরোনামে সংবাদটি প্রকাশিত হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। স্থানীয় বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়।

পাশাপাশি ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার এবং ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে মাগুরা পুলিশ সুপার খান মুহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, বিষয়টি তদন্তে চার সদস্যের টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।