কেন্দুয়ায় পরপর ধর্ষণের ঘটনায় আতংক জনমনে

0
9
কেন্দুয়ায় পরপর ধর্ষণের ঘটনায় আতংক জনমনে

হুমায়ুন কবির: নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনতিনটি গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুটি ঘটনায় পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে। এবং তৃতীয় ঘটনার ২ জন আটকসহ মামলা হলেও মামলার তদন্তের স্বার্থে অাসামীদের নামগুলো বলতে চাচ্ছে না পুলিশ।

এসব ঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।
নারী সংগঠনসহ সমাজকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ উৎকন্ঠা।

পুলিশ বলছে তারা খবর পেয়েই তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন। কিছু আসামী গ্রেফতারও করেছেন। এদিকে গত ৬ জুন থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত তিনটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনায় শতাধিক মানুষ আহত হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্য রাতে কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়।
কিশোরীটি উপজেলার চিরাং ইউনিয়নের দুল্লি গ্রামের।
কিশোরীর পরিবার জানায়, অটোচালক ইকবালের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে ঈদের পরদিন (৬জুন) অটোতে করে ঘুরতে বের হয়। পরে হাওরের পরিত্যাক্ত একটি মেশিন ঘরে আটকে রেখে বন্ধুবান্ধবসহ ধর্ষণ করে।
বুধবার (১২ জুন) গোগবাজার জামতলা এলাকায় ফেলে রেখে অজ্ঞান অবস্থায় পথচারীরা সেখান থেকে উদ্ধার করে আদমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে আসে।

এদিকে ১১ জুন গড়াডোবা ইউনিয়নের আউজহাটি শিবপুর গ্রামের এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী খালার বাড়ি থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে গণ ধর্ষণের শিকার হয়।

এর আগে (৬ জুন) ঈদে বাড়ি এসে এক গার্মেন্টস কর্মী কথিত স্বামীর সাথে গিয়ে গণ ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

পুলিশ দুটি ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেফতার দেখালেও পোশাক কর্মী ধর্ষণের মূল আসামী কথিত স্বামী আটক হয়নি।

অপরদিকে তৃতীয় ঘটনার ২ জন অাটক হলেও মামলার তদন্তের স্বার্থে নামগুলো বলতে যাচ্ছে না পুলিশ।

এছাড়াও কেন্দুয়ায় ঈদের নামাজসহ বিভিন্ন তুচ্ছ ঘটনায় গ্রামবাসীসহ একাধিক ষংঘর্ষের ঘটনা ঘটে,এতে প্রায় শতাধিক লোক আহত হয়।

কেন্দুয়া উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক রহিছ উদ্দিন মুটোফোনে বলেন নারী নির্যাতন প্রতিরোধের কঠিন অাইন থাকলেও যথাযত প্রয়োগ না হওয়ায় এ রকম ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এছাড়া অভিভাবদের ও সচেনতার অভাব রয়েছে।
ছেলে মেয়ের প্রতি সঠিক নজর রাখলে এ সমস্ত ঘটনা কমে অাসবে বলে অামি মনে করি।

এ ব্যাপারে জেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও লিগ্যাল এইড এডভাকেট দিলোয়ারা বেগম বলেন, অাইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া এবং আসামীর সাথে বাদীকে সমঝোথা করিয়ে দেয়ায় এ সকল ঘটনা ঘটেই চলেছে,
মেডিকেলে গিয়েও হয়রানীর শিকার হতে হয়।

মেডিকেল এজাহার এসবের মারপ্যাচে ভিকটিম একসময় বিচারে বিমুখ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আসামীর বিচার হয় না,ফলে এসকল ঘটনা বেড়েই চলেছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের কাছে পরপরই একই ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রশ্ন ছুরে বলেন, আমরা কি করবো ভাই বলেন?
আমরা তো এলাকায় এলাকায় গনসংযোগ করছি,
আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাবস্থাও নিচ্ছি।