নিহত শ্রমিকের মায়ের কান্না দেখে কাঁদলেন চাটমোহরের ইউএনও

0
42
নিহত শ্রমিকের মায়ের কান্না দেখে কাঁদলেন চাটমোহরের ইউএনও সরকার অসীম কুমার

কাগজ প্রতিনিধি: সেপটিক ট্যাংকে দমবন্ধ হয়ে নিহত শ্রমিকের মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন পাবনার চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার। সেপটিক ট্যাংকে পড়ে নিহত উপজেলার ভাদড়া গ্রামের দিনমজুর বক্কার হোসেনের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক ফরিদ হোসেনের পরিবারকে সহায়তা করেন তিনি। এ সময় নিহত শ্রমিকের মায়ের কান্না দেখে কাঁদলেন ওই ইউএনও।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে সরকার অসীম কুমার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার শামীম এহসানকে সঙ্গে করে ফরিদের বাড়িতে যান। এ সময় জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফরিদের মা ফরিদা খাতুনের হাতে ২০ হাজার টাকা এবং চাল-ডালসহ শুকনো খাবার তুলে দেন।

এ ছাড়া ফরিদা খাতুনকে উপজেলা মহিলাবিষয়ক অধিদফতরের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দিয়ে সেলাই মেশিন উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিকে একমাত্র ছেলে ফরিদকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ মা ফরিদা খাতুন ইউএনওকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্না চেপে রাখতে পারেননি ইউএনও সরকার অসীম কুমারও। তার চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। এ সময় ওই বাড়িতে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

এর আগে গত ১৮ মে পৌর শহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় অধ্যাপিকা খালেদা আক্তারের নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে নতুন সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দমবন্ধ হয়ে মারা যায় এসএসসি পরীক্ষার্থী নির্মাণ শ্রমিক ফরিদ।

পরে দৈনিক যুগান্তরে ১৯ মে ‘এসএসসি পরীক্ষা দেয়া হলো না নির্মাণ শ্রমিক ফরিদের’ এমন শিরোনামে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে খবরটি ইউএনও সরকার অসীম কুমারের নজরে আসে। পরে ইউএনও ফরিদের পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ফরিদা খাতুন এ সময় আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ছেলেকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু আজ আমি আরেক ছেলে (ইউএনও) কাছে পেলাম। এ ঋণ আমি কোনো দিন শোধ করতে পারব না।

সরকার অসীম কুমার বলেন, ছেলে হারানোর বেদনা যে কি তা একজন মা সবচেয়ে বেশি বোঝেন। বিষয়টি হৃদয় দিয়ে অনুভব করার। আমরা তার ছেলের অভাব পূরণ করতে না পারলেও পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আগামীতে আরও সহযোগিতা করা হবে। ফরিদের মতো মেধাবী ছাত্র ও পরিশ্রমীরা যেন অকালে না হারিয়ে যায় এ জন্য সরকার এখন অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার ভাদড়া গ্রামের দিনমজুর বক্কার হোসেন ও গৃহিণী ফরিদা খাতুনের একমাত্র ছেলে ফরিদ হোসেন। মেয়েকে বিয়ে দেয়ার পর ঋণগ্রস্ত বাবাকে সহযোগিতা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিকের কাজ শুরু করে ফরিদ।

গত ১৭ মে বিকালে পৌর শহরের আফ্রাতপাড়া মহল্লায় নির্মাণাধীন বাড়ির সামনে নতুন সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে মারা যায় ফরিদ হোসেন। এ ঘটনায় আহত হন ঈসা আহমেদ নামে অপর এক নির্মাণ শ্রমিক।