জয়পুরহাটে ২ মাস পর পিংকির লাশ উত্তোলনের নির্দেশ

0
77

শফিকুল ইসলাম: জয়পুরহাটে ২ মাস পর নিহত পিংকির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পূনরায় ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত রোববার নিহত পিংকির মা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোমেনা বেগমের আবেদনের প্রেক্ষিতে জয়পুরহাট ‘ক’ অঞ্চল আমলী আদালতের ম্যাজিষ্ট্রেট ইকবাল বাহার এ আদেশ দেন। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট বজলুর রহমান মন্ডল এ বিষয় নিশ্চিত করেছেন। মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, পিংকি হত্যা মামলার বাদীর ভাই জয়পুরহাটের মৃত: দরবেশ মজিবর রহমানকে গত ২০০০ সালে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের লোভে একটি মহল নৃশংসভাবে খুন করেন। মৃত মজিবর রহমানের উত্তরাধীকারি হিসাবে সে সময় থেকে জীবিত ছিলেন মামলার বাদী মোমেনা বেগম ও তার মেয়ে নিহত পিংকি খাতুন। মজিবর রহমান ছিলেন বিশাল সম্পদের মালিক। দরবেশ মজিবর রহমান নিহতের পর পিংকি তার মা ও বাবাকে সাথে নিয়ে জয়পুরহাটের সবুজ নগরে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। হঠাৎ করে পিংকির বাবা ও মামলার বাদীর স্বামী আঃ ছাত্তার অসুস্থ্য হওয়ায় মা-মেয়ে মিলে তাকে নিয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীনে ব্যস্ত ছিল। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে পিংকি হত্যা মামলার আরজি বর্ণিত ১৫ নং আসামীসহ বেশ কয়েকজন আসামী মিলে মোবাইল ফোনে নিহত পিংকিকে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে ডেকে আনেন। পিংকি তার কথামতে ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে এসে মামলার ১৫ নং আসামীর বাসায় উঠে দুই দিন যাবত অবস্থান করার পর তাদের ভাড়া বাসায় চলে যান। সেখানে বসবাস করা কালীন সময়ে ২০১৮ সালের ২৭ ডিসেম্বরে পিংকির মা মোবাইল ফোনে জানতে পারে তার মেয়ে পিংকি গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের সেলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্বহত্যা করেছে। সে সময় এ বিষয়ে জয়পুরহাট সদর থানার পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। ওই সময় পিংকির মা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোমেনা বেগম ঢাকা থেকে জয়পুরহাটে এসে মেয়ের লাশ দেখার পর আত্মহত্যার বিষয় মেনে নিতে পারেননি। তখন তিমি মনে করেন তার বড় ভাই মৃত দরবেশ মজিবর রহমানের বিষয়সম্পত্তি থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করার জন্য সুকৌশলে তার মেয়ে পিংকি খাতুনকে হত্যা করে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলে রেখেছে আসামীরা। এমন ধারণা নিয়ে বাদী হয়ে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী জয়পুরহাটে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিশেষ পিপি জেলা কৃষক লীগের সভাপতি এ্যাডঃ ফিরোজা চৌধুরীসহ ২১ জনকে আসামী করে জয়পুরহাট ‘ক’ অঞ্চল আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত পিংকির মা মোমেনা বেগম। মামলা দায়েরের পরে বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে গণ্য করার জন্যে জয়পুরহাট সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। পিংকি মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর আদালত গত রোববার আবারও লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে পুনরায় ময়না তদন্তের জন্য নির্দেশ দেন। যাতে করে তার মৃত্যুর বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।