বরিশালে বিয়ের দাবিতে ছাত্রলীগ নেতার বাসায় নেত্রী

0
85

কাগজ প্রতিনিধি: ছাত্রলীগ নেতা হিমু বাশারের (৩৫) সঙ্গে আট মাসের প্রেমের সম্পর্ক কলেজছাত্রীর (৩০)। এরই মধ্যে প্রেমিক হিমু বাশার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। তারা নগরীর একাধিক আবাসিক হোটেলে রাত কাটিয়েছেন। এমনকি লঞ্চের একটি কেবিনে দুইজনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ঢাকাতেও গেছেন। তবে কলেজছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে নানাভাবে এড়িয়ে যান হিমু বাশার। নানা কারণ দেখিয়ে টালবাহানা শুরু করেন। অবশেষে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেন কলেজছাত্রী।

সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর ফকিরবাড়ি এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা হিমু বাশারের বাসার সামনে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন এই কলেজছাত্রী। এ ঘটনার পর থেকে ছাত্রলীগ নেতা হিমুসহ পরিবারের সবাই পালিয়েছেন। খবর পেয়ে হিমুর বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। একপর্যায়ে খবর পেয়ে কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে কোতোয়ালি মডেল থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা হিমু বাশার বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। অনশনরত প্রেমিকা একই কলেজের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রেমিকার বাসা শহরের ২৭ নং ওয়ার্ডে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয়ের এক ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, কলেজের একই বর্ষে পড়ার সুবাদে ছাত্রলীগ নেতা হিমু বাশারের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। হিমু বাশার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কলেজছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেন। এরপর থেকে কলেজছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দেন। কিন্তু হিমু বাশার বিয়েতে রাজি হচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে কলেজছাত্রী সোমবার সকালে প্রেমিক হিমু বাশারের বাড়িতে যান। হিমু বাশারের পরিবারের লোকজন বিষয়টি মেনে না নেয়ায় সেখানেই অনশন শুরু করেন কলেজছাত্রী। পরে হিমু বাশারসহ পরিবারের সবাই কলেজছাত্রীকে বাড়িতে রেখেই পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী বলেন, হিমু বাশারের সঙ্গে আমার আট মাস ধরে সম্পর্ক। হিমু বাশার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কিন্তু এখন বিয়ে করতে রাজি হচ্ছে না। বিষয়টি আমার আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই জেনে গেছেন। তাদের সামনে লজ্জায় দাঁড়াতে পারছি না। এ অবস্থায় তাকে বিয়ে ছাড়া কোনো পথ নেই আমার।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদ বলেন, খবর পেয়ে অনশনরত কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।