উল্লাপাড়ায় কৃষি জমিতে হচ্ছে বসতবাড়ি

0
66

সাহারুল হক সাচ্চু: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কৃষি জমিতে নতুন বসতবাড়ি করা হচ্ছে। যৌথ পরিবার ভেঙ্গে নতুন পরিবার হচ্ছে। বাড়ছে পরিবার সংখ্যা। পুরানো বসত ভিটায় জায়গা সংকটে কৃষি জমিতে গড়া হচ্ছে বসতবাড়ি। বাড়ছে গ্রামের আয়তন। আবাদী জমি কমছে। শহর ঘেষা গ্রাম এলাকায় বেশি নতুন বসতবাড়ি হচ্ছে। উল্লাপাড়ায় মোট পরিবার সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭শ ৪৪টি। বেশি সংখ্যক পরিবারের বসবাস গ্রামে। মোট আয়তন ৪১ হাজার ৪শ ৬১ হেক্টর। মোট আয়তনের মধ্যে বসতবাড়ি রাস্তা ঘাট, হাট-বাজার ও অন্যান্য অবকাঠামো মিলে রয়েছে ৮ হাজার ১১ হেক্টর। এ হিসেবে মোট আয়তনের পাচ ভাগের একভাগ জুড়ে বসতবাড়ি সহ অন্যান্য অবকাঠামো রয়েছে। এদিকে যৌথ পরিবার ভেঙ্গে নতুন পরিবার সংখ্যা প্রতি বছরই বাড়ছে। এসব পরিবার গ্রাম থেকে বেড়িয়ে কৃষি জমিতেই বাড়ি ঘর নির্মান করে বসবাস করছে। গ্রাম্য সড়ক পথের ধারেই কৃষি জমিতেই অনেকেই নতুন বসতবাড়ি নির্মান করছে। গত দু’দশকে সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নে কম করে হলেও শ’পাচেক নতুন বসতবাড়ি হয়েছে। এমনযে, এক দুটি করে নতুন বাড়ী নিয়ে নতুন পাড়া গঠন হয়েছে। নাগরৌহা গ্রামে নতুন বসতীদের নিয়ে একটি পাড়া গঠন হয়েছে। মুল গ্রাম থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে শৈলাগাড়ীতে কৃষি জমিতে এসব বসতবাড়ি নির্মান করে বসবাস করা হচ্ছে। উল্লাপাড়া পৌর সিমানার মধ্যে অবস্থিত গ্রাম এলাকায় নতুন বসতিও হচ্ছে। গত দেড় দশকে পাচশো’র ভাষা নতুন বসতি পরিবার হয়েছে। খোজ নিয়ে জানা যায়, নতুন বসতি বেশি সংখ্যক পরিবার গ্রাম এলাকা থেকে এসে বসতি হয়েছে। এরা ব্যবসায়ী কিংবা চাকুরীজনিত কারণ ছাড়াও শহর এলাকায় বসবাসের ইচ্ছায় গ্রাম ছেড়ে বসতি গড়ছে। নতুন বতসবাড়ি নির্মানকারী একাধিকজনের বক্তব্যে আগে গ্রামের পুরানো ভিটাতেই বসবাস ছিল। পুরানো ভিটায় জায়গা সংকটে ও বিভিন্ন সমস্যায় কৃষি জমিতেই বাধ্য হয়ে বসতবাড়ি নির্মান করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খিজির হোসেন প্রামানিক জানান, একেবারে কৃষি জমি ছাড়াও বিভিন্ন গ্রাম্য সড়কের পাশে কৃষি জমিতে বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মান হচ্ছে। এতে কৃষি জমি কমছে। উল্লাপাড়া অঞ্চল পুরোপুরি কৃষি নির্ভর এলাকা। কৃষি জমিতে বসতবাড়ী নির্মান না করতে তার বিভাগ থেকে নিরুৎসাহিত করা হয়ে থাকে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান জানান, গ্রাম গুলোয় পুরানো ভিটা বসবাসে প্রয়োজনীয় জায়গা সংকটে নতুন পরিবার হয়তো কৃষি জমিতেই বসতবাড়ি নির্মান করছে। এতে কৃষি জমি যে কমছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পরিবারকেই গুরত্ব দিয়ে ভেবে দেখার দরকার রয়েছে।