রাতে গ্রেপ্তার, ভোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

0
90

কাগজ প্রতিনিধি: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধে মামুন সরদার (২৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিহত ব্যক্তি ডাকাত দলের সদস্য। আজ মঙ্গলবার ভোররাতে উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কাজীরহাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল খালেক বলেন, ‘গত ৫ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় পান্না মীরের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় কাজীরহাট থানায় একটি মামলা করা হয়। সে মামলার সূত্র ধরে কয়েক দিন আগে রাসেল হাওলাদার নামের একজনকে আটক করা হয়। পুলিশ ও আদালতে রাসেলের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ওই ডাকাতি নিহত মামুন সরদারের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়। ডাকাতির মালামালও তাঁর কাছে আছে।’
‘পরে ওই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গতকাল সোমবার রাত ৮টার দিকে বিশেষ এক অভিযানে নেমে উপজেলার মুলাদী ব্রিজ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তী সময়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুসারে, কাজীরহাটের কাজীরাবাদ এলাকায় মামুনের ইটভাটার পশ্চিম পাশে ডাকাতির মালামাল উদ্ধারে যায় পুলিশ।’
পরিদর্শক আরো দাবি করেন, ‘সে সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মামুনের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। বন্দুকযুদ্ধের ফাঁকে পালানোর চেষ্টায় দৌড় দিলে গুলিবিদ্ধ হন মামুন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’
ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার, একটি পাইপগান, দুই রাউন্ড রাইফেলের গুলি, দুই রাউন্ড পিস্তলের গুলি, বেশকিছু গুলির খালি খোসা, দুটি রামদা, একটি শাবল, ছয়টি মুখোশ উদ্ধার করা হয় বলেও জানান পরিদর্শক।

কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-অর রশিদ দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তির নাম মামুন সরদার (২৭)। তাঁর বাড়ি হিজলা উপজেলার খুন্না এলাকায়। তিনি একটি ডাকাত দলের নেতৃত্ব দিতেন।

বরিশালের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় অস্ত্র আইন, পুলিশের ওপর হামলা ও নিহতের ঘটনায় তিনটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামুনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।